প্রধান সূচি

ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে আঙ্গুল ভেঙ্গে দিল শিক্ষক

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার আকলম মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম পড়ে না যাওয়ায় শাহরিয়ার নামে এক অষ্টম শ্রেনির ছাত্রকে বেত্রাঘাত করে ডান হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দিলেন শিক্ষক। ওই শিক্ষকের নাম তাপস মন্ডল। তিনি ওই স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক পদে চাকরি করছেন। মঙ্গলবার স্কুল শুরু হওয়ার পূর্বে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ স্বীকার করে তাপস মন্ডল বলেন, পিটানো সময় ওই শিক্ষার্থী আঙ্গুল বেশি নাড়াচাড়া করেছে। তাই বেত ফসকে গিয়ে আঙ্গুলে লেগে ফ্রাকচার হয়েছে।
শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের মা অভিযোগ করে বলেন, খবর পেয়ে ছেলেকে নিয়ে নেছারাবাদ হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা তার ছেলের আঙ্গুল এক্সরে করে দেখেন একটি আঙ্গুল ফ্রাকচার হয়েছে। শাহরিয়ার উপজেলার আরামকাঠি গ্রামের মো. শাহিন মিয়ার ছেলে।
শাহরিয়ারের মা বলেন, আমার ছেলের একটি প্যান্ট। ওইদিন প্যান্ট ভিজা ছিল। তাই সে জিন্স প্যান্ট পড়ে স্কুলে গিয়েছিল। এতে তার শিক্ষক তাপস মন্ডল রাগন্বিত হয়ে এলোপাথারি বেত্রাঘাত করে ছেলের ডান হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দিয়েছে।
শাহরিয়ার অভিযোগ করে বলে, আমাদের স্কুলের এ্যানথেম শুরুর পূর্বে তাপস স্যার আমাকে ইউনিফর্মের প্যান্ট পরা না দেখে বেত দিয়ে এলোপাথারি পিটুনি শুরু করে। আমি হাত দিয়ে পিটানো থামাতে গেলে আমার হাতে প্রচন্ড ব্যাথা পাই। পরে ডাক্তার দেখাতে এসে দেখি হাতের আঙ্গুল ভেঙে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ওই ছাত্র জিন্স প্যান্ট পড়ে বিদ্যালয়ে এসেছিল। তাই ক্রীড়া শিক্ষক তাকে দুইটি পিটান দিয়েছে। ভুলে হাতের আঙ্গুলে লেগে একটু মচকা ব্যাথা পেয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ এখনো জানায়নি। স্কুলের শিক্ষকরা বেত নিয়ে ক্লাসে যেতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলে বেত নিয়ে যাওয়ার কোন অনুমতি নেই। আমি খোঁজ বিষয়টি দেখব।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial