করেন ওটি, দেন প্রসূতি মায়েদের ব্যবস্থাপত্র !
এসএসসি পাশ করা ক্লিনিক ম্যানেজার
‘সরকারি হাসপাতালের একজন সরকারি নার্স রোগীদের যেসব সেবা দিতে পারে না। আমি সেই সব সেবা দিতে পারি। এজন্য রোগীরা আমার কাছে আসে। একজন এমবিবিএস ডাক্তার ৫ বছর ট্রেনিং করে ডাক্তারি করেন। আর আমি ২০ বছর ডাক্তাদের সাথে কাজ করি। চিকিৎসা কাজে আমার ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি ডা. অরুন চন্দ্র মন্ডলসহ নামকরা বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সাথে সহযোগী হিসিবে কাজ করে আসছি।’
কথাগুলো বলছিলেন- নেছারাবাদ উপজেলার মেডিপ্রাইম ক্লিনিকে ম্যানেজার পদে চাকরিরত মাত্র এসএসসি পাশ করা সুকদেব মন্ডল নামে এক কথিত চিকিৎসক। ওই ক্লিনিকে বসে তিনি সার্জন টিমে সিজারিয়ান অপারেশন সহ ছোটখাট অস্ত্রপাচারের কাজ করে চলছেন। সিজারিয়ান অপারেশন শেষে মা ও নবজাতক শিশুর জন্য দিয়ে থাকেন পরবর্তী চিকিৎসাপত্র। এতসব কাজের পরেও তিনি দেখভাল করেন ক্লিনিকের যাবতীয় কাজ। এই বহুমুখি প্রতিভাধারী সুকদেব মন্ডল ক্লিনিকে ভর্তি রোগীসহ ক্লিনিকে কর্মরত সবার কাছে একজন ডাক্তার হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি উপজেলার আরামকাঠি গ্রামের মালিহা নামে এক গৃহবধূর নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা হয় ওই ক্লিনিকে বসে। সুকদেব মন্ডল সেই নরমাল ডেলিভারি করে পার পেয়ে গেলেও বিপাকে পড়েন রোগীর ঔষধ প্রেসক্রাইভড করে। ডেলিভারির পরে মায়ের বুকে দুধের জন্য তিনি প্রেসক্রাইভড করেন একটি হারবাল ঔষধের নাম। ঔষধ খেয়ে রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে নানা প্রশ্নের মুখে বেরিয়ে আসে চিকিৎসার আড়ালে সুকদেবের অপচিকিৎসার যত চাঞ্চল্যকর তথ্য।
নেছারাবাদ উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন অবস্থিত ওই ক্লিনিকে বসে তিনি দিনের পর দিন এসব কর্মকান্ড চালালেও যেন দেখার দায়িত্ব নেই কারো।
জানাগেছে, একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, প্রশিক্ষিত নার্স, আয়া, ডিপ্লোমাধারি টেকনোলজিষ্ট, সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার বিধান রয়েছে। অথচ কথিত চিকিৎসক সুকদেব মন্ডলের পরিচালিত ওই ক্লিনিকে ওইসব নিয়মনীতি যেন সবই উপেক্ষিত। অভিযোগে রয়েছে ওই ক্লিনিকে নেই কোন নির্দিষ্ট সার্জন, এমবিবিএস ডাক্তার, এমনকি তাদের সিজারিয়ান অপারেশনে আসেনা কোন এ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তারও। কখনো সহযোগী ডাক্তার কখনও অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে ফোন করে এনে করানো হয় সিজারিয়ান অপারেশন। রোগীদের অভিযোগ তাদের ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে যিনি সার্জন তিনিই আবার এ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে থাকেন। তাই প্রশিক্ষিত জনবল অভাবে ওই ক্লিনিকে সহযোগী ডাক্তার এনে কথিত চিকিৎসক সুকদেব মন্ডল, ক্লিনিকের কর্মচারিরাই থাকেন সিজারিয়ান অপারেশনের কাজে। এতে হুমকির মধ্যে পড়ছে ওই ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী রোগীসহ নবজাতক শিশুরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুকদেব মন্ডল বলেন, আমি মেডিপ্রাইম ক্লিনিকের ম্যানেজার পদে আছি। একজন ম্যানেজার হয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সার্জনের সহযোগী হিসেবে সিজারিয়ান অপারেশনে থাকি। আমি এসএসসি পাশ করেছি। আমার ডিএমএ এবং এলএমএফ সনদ আছে। তাহলে এ কোর্স করে কিভাবে প্যাডে প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসাপত্র দেন। তিনি বলেন, আমি একা ওষুধ লিখিনা। আমারমতো এখানকার সব ক্লিনিকের ম্যানেজাররা ওষুধ লিখে থাকে। আমি লিখলে দোষ কোথায়।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. হাসানাত ইউসুফ জাকি জানান, নেছারাবাদের ওই ক্লিনিকে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সম্ভব নয়। ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরেজমিনে আপনার পরিদর্শনের নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অফিসের নানা কাজ থাকে। চাইলেই সম্ভব হয়না। তাহলে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসায় ক্লিনিকে যদি কোন রোগীর দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে কি করবেন, জানতে চাইলে বলেন, তখন লিখিত অভিযোগ ছাড়া পরিদর্শন করা যাবে। এছাড়া লিখিত অভিযোগ ছাড়া সম্ভব নয়।
