প্রধান সূচি

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রধান কুশিলব জিয়াউর রহমান : শ ম রেজাউল করিম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান কুশিলব জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তার প্রতিদান হিসেবে মাত্র ৭ দিনের মাথায় জিয়াউর রহমানকে সেনা প্রধান করা হয়েছিল। এরপরে ৩ মাসের মাথায় জিয়াউর রহমান উপ-সামরিক আইন প্রশাসক এবং ৪ মাসের মাথায় প্রধান আইন সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যে কয়টা মিটিং হয়েছিল সব মিটিং ই হয়েছিল জিয়াউর রহমানের সাথে, আমেরিকান হাইকমিশনের সাথে।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গন্ধুর খুনিদের বাঁচাবার জন্য যে আইনটি হয়েছিল সেটিও পাশ হয়েছিল জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরে ১৯৭৯ সালের ৬ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিলের মাধ্যমে। কাজেই বঙ্গবন্ধুর খুনের নাটের গুরু, প্রধান কারিগর, প্রধান ষড়যন্ত্রকারী জিয়াউর রহমান। আর শেখ হাসিনাকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল তার কারিগর ছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান ।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১-১৯৭৫ ও ২০০৪ এর ২১ আগষ্ট একই সূত্রে গাঁথা। বিএনপি জামাত আবার ক্ষমতায় আসলে লাল সবুজের পতাকার পরিবর্তে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করতে চাইবে। শেখ হাসিনা আমাদের কাছে একজন মহামানবী। সারা বাংলাদেশের বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা সবার কাছেই শেখ হাসিনার ভাতা পৌঁছে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আমাদের কাছে আল্লাহর আশির্বাদ। ইজ্জত দেওয়ার মালিক আল্লাহ্, কাকে কোথায় রাখবেন তা জানেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর কর্মীদের গালিগালাজ করে মহত্ব লাভ করা যায় না। শেখ হাসিনা না থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে। তাই আমাদের দায়িত্ব আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা। আগামীতে নৌকার প্রার্থী যে হবে আমি তার সাথে থাকবো, শেখ হাসিনা ও বঙ্গন্ধুর পক্ষে থাকবো। আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু, আমাদের আদর্শ বঙ্গবন্ধু, আমাদের প্রতীক নৌকা।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৫ আগষ্ট জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজিরপুর উপজেলা ষ্টেডিয়ামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মজুমদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী’র সঞ্চালনায় শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক এডভোকেট চন্ডিচরন পাল, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোজিনা নাসরিন রোজী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী রুহিয়া বেগম হাসি, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক এস এম নজরুল ইসলাম বাবুল, জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ও সেখমাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য কামরুজ্জামান খান শামীম, সাবেক ভিপি ও পিরোজপুর সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম বায়েজিদ হোসেন, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন পিরু, নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শাহ্আলম ফরাজী, নির্ঝর কান্তি বিশ^াস, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুরজ্জামান আতিয়ার, নাজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিরুজ্জামান অনিক, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ^াস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম তাপস, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আল-আমিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন খান প্রমুখ।


শোকসভা শেষে জাতির পিতার আতœার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত ও তাবারক বিতরণ করা হয়।
শোক সভায় নাজিরপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, কৃষক লীগের নেতা-কর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে তারা দুপুরের পর থেকেই মিছিল সহকারে সভাস্থলে উপস্থিত হন। বিকেলের মধ্যেই শহীদ মিনার ছাড়িয়ে পুরো ষ্টেডিয়াম রোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। মানুষের উপচেপড়া ভীড়ে সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিনত হয়ে যায়। আর তাদের মুখে শ্লোগান ছিল- জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় শেখ হাসিনা, জয় শ ম রেজাউল করিম।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial