পিরোজপুরে পাউবো জেলা কার্যালয় নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা কার্যালয়ের ভবনের ২য় তলার নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবনের ২য় তলার ছাদ নির্মানের সেন্টারিং এ লোহার পাইপ ও স্টিল পাতের ব্যবহারের কথা থাকলেও লোহার পাইপের স্থানে জোড়াতালি দেয়া বাঁশ ও স্টিল পাতের স্থানে কাঠের ব্যবহার করা হচ্ছে। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ২য় তলায় এ অনিয়ম ও দুর্নীতি চললেও কাজের তদারকীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা সব কিছুই না দেখার ভান করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর জেলা কার্যালয়ের ২য় তলার ভবনের নির্মান কাজ শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে। বর্তমানে ভবন ও ছাদ নির্মানে কাজ করছে মোহাম্মদ ইউনুস এ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত ১ মে শুরু হওয়া কাজটি শেষ হবার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে। কাজটির চুক্তিমুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৫৬ টাকা। তবে চলমান এ কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। কার্যাদেশে পাথর দিয়ে ঢালাই ছাদের সেন্টারিং এ লোহার পাইপ ও স্টিল পাতের ব্যবহার করার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু লোহার পাইপের স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে জোড়া তালি দেয়া বাঁশ ও স্টিল পাতের স্থানে কাঠ। এছাড়া ছাদ ঢালাইয়ের কাজে যে রড ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়েও আছে অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাইবো একজন ঠিকাদার জানান, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এমন কার্যক্রম তাদের মাথার উপরেই চলছে। সবাই বিষয়টি দেখেও কেউ না দেখার মতো অবস্থা হয়েছে। লোহার পাইপের স্থানে জোড়া তালি দেওয়া বাঁশ ব্যবহারের কারণে যে কোন সময় পাথর দিয়ে ঢালাই ছাদ ভেঙ্গে পরতে পারে। কিছু অসাধু ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের কারেনই এ অনিয়ম হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কাজের ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এ্যান্ড ব্রাদার্সের কাউকে কথা বলার জন্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এ্যান্ড ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে মূল ঠিকাদারের বাইরে অন্য কেউ এ কাজ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. আলমগীর জানান, কাজে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে তবে এতে কোন সমস্যা হবে না। তারা বিষয়টি দেখছেন। এ বিষয়ে পিরোজপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন কোন কথা বলতে রাজি হননি।
