শরণখোলায় পুকুর নষ্ট করে মার্কেট নির্মানের উদ্যোগ জেলা পরিষদের !
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের প্রায় ১০ হাজার মানুষের মিষ্টি পানির একমাত্র পুকুরটিতে দোকান ঘর নির্মানের ইজারা বন্দোবস্ত দিয়েছে বাগেরহাট জেলা পরিষদ।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুর ই আলম সিদ্দিকী জানান, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন উপজেলার রায়েন্দা পুকুরের দক্ষিন পাশে আধা-পাকা ঘর নির্মানের জন্য ৭ জনের নামে ২০২২ সালের ১৭ জুলাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া পত্রের একটি অনুলিপি (স্মারক নং-৪৬.৪২.০১০০.০০১.৩২.১০০.২২.২৯৮(৭) গত ২০ জুন তার দপ্তরে এসেছে পৌছে।
ওই পত্রে উল্লেখিত ইজারা বন্দোবস্ত নেওয়া ৭ ব্যক্তি হচ্ছেন- শিরিন সুলতানা রুমি, মো. আসাদুজ্জামান খান, উজ্জল সাহা, অম্বরিশ রায়, মৌসুফা নুর মুমু, মো. ইমরান উদ্দিন শুভ, শিশির কুমার সাহা। ইউএনও জানান, পুকুরটি স্থানীয় জনসাধারনের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ।
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, শতবর্ষী এ পুকুরটি রায়েন্দা বাজারের হাজার হাজার মানুষের মিষ্টি পানির চাহিদা পুরণ করে আসছে। সংরক্ষিত এ পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষও বন্ধ রয়েছে। জেলা পরিষদ কিভাবে পুকুরে পাকা ঘর নির্মানের জন্য ইজারা বন্দোবস্ত দেয় তা বোধগম্য নয়। এখানে ঘর নির্মান করা হলে পুকুরটির অস্তিত্ব আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে।
রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু হালদার, রায়েন্দা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদুর রহমান, শরণখোলা আইডিয়াল ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. উসমান গনি বলেন, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ওই পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকে। পুকুরের উপর মার্কেট বা ঘর নির্মান হলে এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। অনতিবিলম্বে ওই ইজারা বাতিলের দাবি জানান তারা।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুকুরটি সাধারণ মানুষের জন্য সংস্কার করা প্রয়োজন। অথচ সংষ্কার না করে জেলা পরিষদ না বুঝে ঘর নির্মানের ইজারা দিয়েছে। এটা আপত্তিকর ও জন বিরোধী।
শরণখোলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারি প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জেলা পরিষদের ওই পুকুরটি স্থানীয় জনসাধারনের জন্য গুরুত্বপুর্ণ হওয়ায় উত্তর পাশে ৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্প্রতি একটি পিএসএফ নির্মান করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম সাগর, জিয়াউল হাসান রোকন, মিরাজ আকন জানান, সরকার পুকুর ও জলাধার রক্ষায় কঠোর আইন প্রনয়ন করছে। তাই অনতিবিলম্বে জেলা পরিষদের আত্মঘাতি ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনসহ আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান টুকু বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত আপত্তি দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনে ইজারা বাতিল করা হবে।
