ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং
পিরোজপুরে গাছ পড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ॥ ভেসে গেছে ঘের-পুকুরের মাছ
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে পিরোজপুরে বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে ও ভেঙ্গে গিয়ে বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের খুঁটি। জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় ভেরিবাঁধ না থাকায় নদূর পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে এবং ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কলাগাছ, পেঁপেঁ গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৩০০ ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে পানিতে মাছ ভেসে গেছে ।
এদিকে, সোমবার ভোররাত থেকে পিরোজপুরের সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের উপর গাছ উপড়ে পড়ে এবং ভেঙ্গে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় পিরোজপুরে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বিদ্যুতের অভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় বিদ্যুতের ৩৩ কেভি ওভারহেড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের উপর বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুর শহরের কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।

জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ির উপর গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে বাড়িঘরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। গোলবুনিয়া গ্রামের ফারুক হাওলাদার, অলি হোসেন, খানজাহান ফরাজীর বসতবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে বাড়িঘর বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক স্থানের রাস্তার পাশের গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষজনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গোলবুনিয়া গ্রামের হাওরাদার বাড়ির সামনের এলজিইডি’র রাস্তার পাশের গাছ উপড়ে পড়ে ভেঙ্গে গেছে রাস্তাটি।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এ কোন প্রাণহানির ঘটনা হয়নি। উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ক্ষতিও হয়নি। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটের কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কোন কোন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটির ক্ষতি হয়েছে।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রক্কালে জেলার ২৬১টি নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁকা দালান ও কিছু মসজিদে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। পিরোজপুরে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত ২৫জন চিনা নাগরিককে ঘূর্ণিঝড়ের আগে বিশেষ ব্যবস্থায় পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়া সার্কিট হাউজে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীনসহ জেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো, আবুল বারী জানান, জেলায় প্রায় ৩০০ পুকুর ও ঘের প্লাবিত হয়ে মাছের ক্ষতি হয়েছে।
