প্রধান সূচি

উপরি ছাড়া চেক ছাড়েন না শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী (ভারপ্রাপ্ত) বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোটা অংকের উপড়ি ছাড়া বিদ্যালয়ের বরাদ্দের কোন চেক ছাড়েন না তিনি।
বছরের প্রতি বরাদ্দে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় তাকে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ের সাথে চুক্তি করে বরাদ্দ এনে অর্ধেকই রেখে দেন তিনি। বিদ্যালয়ের স্লিপ, রুটিন মেরামত, ক্ষুদ্র মেরামত, ওয়াশব্লকসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ থেকে বিশ লক্ষাধিক টাকা একাই হাতিয়ে নেন তিনি।
২০২০-২১ অর্থ বছরের বরাদ্দ পাওয়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এ অভিযোগ করেছেন। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেছেন, যেসব শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন তারা আমার কাছ থেকে ঠিকমত সুবিধা পায়নি বলে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার নান্দুহার বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাসেদ, মুক্তাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরা রানী ঢালী, উত্তর আরামকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ মিস্ত্রীসহ একাধিক শিক্ষক তার (শিক্ষা কর্মকর্তা) দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন।
তাদের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী শিক্ষকদের জিম্মি করে বিদ্যালয়ের বরাদ্দ পাওয়া অর্থ থেকে প্রতিটি বরাদ্দে ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কেউ ঘুষ দিতে অনিহা প্রকাশ করলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আটকে রাখার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নিয়েছেন।
শিক্ষকদের অভিযোগে জানা যায়, শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বিদ্যালয়ের স্লিপ বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার, রুটিন মেরামতের ৪০ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ২ লাখ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, তিনি এডুকশেন এমারজেন্সি খাত, নীড বেইজড প্লেয়িংসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে শিক্ষা কর্মকর্তা ঘুষ দাবী করেন। এছাড়াও তিনি টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের রিপেয়ারিং কাজে নিজের মনোনীত লোককে কাজ পাইয়ে দিয়েও ঘুষ নিয়ে থাকেন। শিক্ষকদের অভিযোগ তার সীমাহীন ঘুষ বানিজ্যে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলার ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্য বিদ্যালয় প্রতি স্লিপে ৫০ হাজার, ৭৬টি বিদ্যালয়ে বিদ্যালয় প্রতি দুই লাখ, ৮৬টি বিদ্যালয়ে প্রতিটি বিদ্যালয়ে রুটিন মেরামতে ৪০ হাজার টাকা এবং ১৭টি বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মানের জন্য ওয়াশ ব্লক প্রতি ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ আসে।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর অনেক বিদ্যালয় কাজ না করেও শিক্ষা কর্মকর্তাকে সন্তুষ্ট করে তারা ভুয়া বিল বাউচার বানিয়ে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। আর শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী কাজ না দেখেই সেই বিলে স্বাক্ষর করে বরাদ্দের টাকা ছেড়ে দিয়েছেন।
উত্তর আরামকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ মিস্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি ২০২০-২১ অর্থ বছরে তার বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে সেই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছেন। এছাড়া স্লিপের কাজে পাওয়া ৫০ টাকার বরাদ্দ থেকেও তাকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন।
নান্দুহার বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাসেদ অভিযোগ করেন, রুটিন মেরামত বরাদ্দ থেকে ২ হাজার টাকা, ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা, এডুকেশন এমারজেন্সি বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, ইউসুফ আলী অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে এসব বরাদ্দ থেকে অনেক বেশি ঘুষ নিয়েছেন। আমার কাছেও বেশি চেয়েছিল। আমি রাজি হয়নি বলে, অফিসের চা খরচসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে নানান বাহানা করে আমার কাছ থেকে একটু কম নিয়েছেন।
মুক্তাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিরা রানি ঢালী অভিযোগ করেন, আমার বিদ্যালয় স্লিপের কাজে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। বিনিময়ে শিক্ষা কর্মকর্তা সবার কাছ থেকে যে রকম নিয়েছেন আমার কাছ থেকেও সেরকম নিয়েছেন। করব কি আমরা সবাই নিরুপায়।
ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন ঘুষ খাই না। আমার সামনে প্রমোশন হবে। তাই একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে দুর্নাম ছড়াচ্ছে। তাছাড়া যে সব শিক্ষকরা অভিযোগ দিয়েছে তাদের কোন অনৈতিক সুবিধা দিতে পারিনা বলে তারা এসব রটাচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, আমি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি বটে। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। আমি তার দুর্নীতির খবর অনেক পাচ্ছি, তবে কোন এ্যাকশনে যেতে পারছি না। তারা অধ্যবদি কোন সভা ডাকে নি। সম্প্রতি ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে কিছু কথা শুনে তাকে ডেকে কড়া ভাষায় কথা বলেছি। তবে তার কোন ফল হয়নি। তিনি ইচ্ছেমত যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial