মঠবাড়িয়ায় থানাহাজত থেকে আসামী ছেড়ে দেওয়া ॥ বিয়ের আসর থেকে ফের গ্রেফতার !
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফারের পর থানার হাজতখানা থেকে ছেড়ে দেওয়ায় ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তাকে একটি বিয়ের আসর থেকে ফের তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাবু তালুকদার রাসেল উপজেলার আমরবুনিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে সিলেটের একটি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয় মো. বাবু তালুকদার ওরফে রাসেল (৩৫) এর বিরুদ্ধে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানার এস আই কামরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মঠাবড়িয়া পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখেন। পরে রহস্যজনক কারণে এদিন গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জনমনে পুলিশ সম্পর্কে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিষয়টি পুলিধের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শুক্রবার বিকেল উপজেলার বড়শৌলা গ্রামের বিয়ের আসর থেকে তাকে ফের গ্রেফতার করে পুলিশ।
তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার জানান, তার ভাগিনা রাসেল সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে আসে। শুক্রবার তার বিয়ের দিন ধার্য থাকায় আমি মানবিক কারণে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে জানায় তার (রাসেল) বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে জানতে পারি ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যায়ন দেওয়ায় আমার ভাগিনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুন তালুকদার প্রত্যায়ন দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই ব্যক্তির দুটি নাম (বাবু তালুকদার রাসেল), তা তার জানা ছিলা না।
মঠবাড়িয়া থানার এস আই কামরুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তিকে রাসেল নামে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ধানীসাফা ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যায়ন দিয়েছেন ওই ব্যক্তি বাবু। নামে মিল না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, নামের বিভ্রাটের কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। পরে যাচাই করে শুক্রবার বিকেলে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাবু তালুকদার রাসেলকে শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
