স্বরূপকাঠীতে স্ত্রী ও তার কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে স্বামীর মামলা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নে সাহিদা আক্তার (৪৫) নামে এক গৃহবধু স্বামী, তিন সন্তান ও নাতনী ফেলে রেখে ইউপি সদস্য মো. আল-আমীন (৩২) এর বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। গত রবিবার রাতে গৃহবধু সাহিদা স্বামির ঘর থেকে দেড় লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লক্ষ আশি হাজার টাকা নিয়ে ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রেমিক আল-আমীনের ঘরে ওঠেন। এ ঘটনায় প্রেমিক ইউপি সদস্য আল-আমীন এবং গৃহবধু সাহিদা বেগম (৩২)কে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার সাহিদার স্বামী মো. বাবুল হাওলাদার বাদী হয়ে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেনকে তদন্ত করে তা ৬০ কর্ম দিবসের মধ্য জমা দিতে বলেছেন। আদালতের মামলা নং ৫৫৫/২২।
বাদীর মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী বাবুল হাওলাদার একজন স’মিল ব্যবসায়ি। আসামি আল-আমীন ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। সেই সুবাদে তিনি বাবুলের বাড়ীতে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে তাদের বাড়ীতে যেতেন। তার ঘরে তিন ছেলের দুইজন বিবাহিত। ঘরে একটি নাতনীও রয়েছে। ব্যবসার সুবাদে বাবুল হাওলাদার প্রায়ই বাহিরে থাকতেন। এ সুযোগ ধরে আল-আমীন স্ত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে দু’জনে পরকিয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়। তিনি স্ত্রীকে বুঝিয়ে পথে আনার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ মে দুপুরে প্রতিবেশি জনৈক বেল্লালের ঘরে দু’জনে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হলে স্থানীয়রা ধরে ফেলেন। পরে তিনি স্ত্রীকে বুঝিয়ে ঘরে নিয়ে যান। ঘটনার দিন রবিবার (৮ মে) রাতে আল-আমীন পুনরায় বাদীর ঘরে আসলে স্ত্রী সাহিদা বেগম ঘরের টাকা পয়সা ও যাবতীয় স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ইউপি সদস্য আল-আমীনের সাথে চলে গিয়ে তার (আল-আমীন) ঘরে উঠে।
নেছারাবাদ থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিষয়টি পুরোপুরি জানি না, কি হয়েছে। তবে শুনেছি এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। তার তদন্তভার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুচিত্রা রানি বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটা মিমাংসায় বসেছিলাম। গৃহবধু সাহিদা বেগম আল-আমীনকে বিয়ে করতে চায়। অথচ ইউপি সদস্য আল-আমীন এখন রাজি নয়। গৃহবধুর দাবি আল-আমীন এখন তাকে বিয়ে না করলে তার আত্মহত্যার পথ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। তবে এ ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য আল-আমীন গা’ঢাকা দিয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটা মিমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। পরে তা সম্ভব হয়নি।
