পিরোজপুরে জাটকা রক্ষা অভিযানে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
জাটকা রক্ষা কর্মসূচির আওতায় প্রশাসনের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পিরোজপুরে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে এক কোটি ৪৯ হাজার টাকার অবৈধ জাল আটক করে পুড়িয়ে দিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ। গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ১৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ২১৬টি নেট বাধা জাল, চরঘেরা জাল, টানা জাল ও বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। পরে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়। একই সময়ে ২৫ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে একটি মামলা দায়ের করা সহ ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
শনিবার দিনব্যাপী জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীর সাপলেজা থেকে বড়মাছুয়া পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৬টি বেহুন্দি জাল, ৭টি নেট বাধা জাল, ২০টি চরঘেরা জাল, ১৫টি টানা জাল এবং ড্রামসহ নেট বাধা জালের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এসব জালের আনুমানিক মুল্য ৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী, মেরিন ফিশারিজ অফিসার নাসরিন বানুসহ মঠবাড়িয়া থানার পুলিশ দল।
এছাড়া গত এক মাসে জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে। ৪ লাখ ১৬ হাজার হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং নেটজাল, নেট বাধাজাল, চরঘেরা জাল, রেণুধরা মশারী জালসহ বিভিন্ন প্রকারের ১৬৮টি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। আটককৃত জালগুলো পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এসব অভিযানে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা ও মো. তারিকুল আলম, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কফিল উদ্দিন মাহমুদ, জেলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারীসহ মৎস্য বিভাগের জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী জানান, জাটকা ও দেশীয় মাছ ও রেনু পোনা সংরক্ষণ করতে পিরোজপুরের বলেশ্বর নদের তুষখালী, বড়মাছুয়া হয়ে ভান্ডারিয়া, পিরোজপুরের কচাঁ ও কাউখালীর সন্ধ্যা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে প্রশাসন, আইন শৃংখরা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে অবৈধ জাল আটক করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, পিরোজপুর জেলায় গত এক মাসে জাটকা সংরক্ষণের লক্ষে ৭৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
