প্রধান সূচি

পাইকগাছায় গাছে গাছে আশফলের মুকুলের সমারোহ

চৈত্রের হাওয়ায় আশফল গাছের পল্লবে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে। সোনালি রঙের মুকুলে ঢেকে গেছে গাছ। বাতাসে আশফলের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। বাগান জুড়ে শুধু মৌমাছির গুঞ্জন। গাছে গাছে মুকুলের এ সৌন্দর্য আর মৌমাছির গুন গুন শব্দে সবার মন কাড়ছে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রান। বাতাসে মিশে সৃষ্টি হচ্ছে মৌ মৌ গন্ধ। ফুলে ফুলে মৌমাছি উড়ে উড়ে মধু সংগ্রহ করছে আর এতে পরাগায়ন হচ্ছে ফুলের। বসন্তের নানা ফুলের সঙ্গে সৌরভ ছড়াচ্ছে গাছে গাছে আশফলের মুকুল। আর এ মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। মনকে করে তুলছে আরো প্রাণবন্ত। আঁশফল এক প্রকার লিচু জাতীয় সু-স্বাদু ফল। এটি লংগান ও কাঠ লিচু নামে পরিচিত। এটি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদ। যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। আঁশফল গাছ মধ্যমাকারের চির সবুজ বৃক্ষ। যা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বেলে মাটিতে এই গাছ জন্মে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ আঁশফল গাছ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পথের ধারে অনেক স্থানেই দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের স্থানীয় আঁশফল এর ফল আকারে ছোট এবং রসালো অংশ খুবই কম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সম্প্রতি বারি আঁশফল-১ এবং বারি আঁশফল-২ নামে আঁশফলের দুটি উন্নত জাত বাংলাদেশের সর্বত্র চাষের জন্য মুক্তায়ন করেছে।

আশফল শারীরিক দুর্বলতা তাড়াতে অতুলনীয়। অবসাদ দূর করতেও এর দারুণ সুনাম। হৃদযন্ত্র সুরক্ষা এবং সক্রিয় রাখতে আঁশফল উপকারী ভূমিকা পালন করে। ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশফল খাওয়া উচিত। পেটের অসুখ দূর করতেও এতে থাকা আঁশ উপকারী। আঁশফলে থাকা লৌহ দেহের ক্ষয়পূরণে সহায়ক। দেহের মাংসপেশির ক্ষয় রোধ করতে আঁশফল খুবই উপকারী। কোনো ধরণের ফ্যাট না থাকায় ওজন কমাতেও এ ফল সাহায্য করে। আঁশফলের ভিটামিন ‘সি’ নানা ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে দেহকে শক্তিশালী করে তোলে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি ফল উৎপাদনে বিশেষভাবে সহায়ক। রোপণ না করা সত্ত্বেও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ফলের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ এই চার মাসেই পাওয়া যায় শতকরা ৫৪ শতাংশ দেশি ফল। আর বছরের আট মাসে পাওয়া যায় ৪৬ শতাংশ।

কৃষিবিদদের মতে, কৃষি প্রধান ও উর্বর মাটির এই দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ধরণের ফলগাছের সংখ্যা ছিল শতাধিক। তবে নানা কারণে গত দুই দশকের ব্যবধানে এ সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধশতকে। এসবের মধ্যে- কাউফল, করমচা, ডেউয়া, আঁশফল, গাব, জগডুমুর, চাম্বুল, আঁতাফল, ডুমুর, চালতা, অরবরই, বিলিম্বি, শরিফা, লুকুলুকি, বৈচি, মুনিয়া কোনো রকমে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

পাইকগাছা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একক কোন আঁশফল ক্ষেত নেই। মিশ্র বাগান রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হেক্টর আঁশফল ক্ষেত রয়েছে। চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় আঁশফল গাছে ব্যাপক ফুল হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আঁশফলের গাছ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার আঁশফলের গুণগতমান খুব বেশি ভাল না হলেও চাহিদা রয়েছে প্রচুর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে আঁশফলের ভালো ফলন হবে। পরিত্যাক্ত জায়গায় আঁশফলের আবাদ করা যায় এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ জন্য এলাকার কৃষকদেরকে আঁশফল চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial