কাউখালীতে সরকারি জমি প্রভাবশালীদের দখলে
পিরোজপুরের কাউখালীতে নামে-বেনামে বন্দোবস্তর মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার সরকারি খাস জমি দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত ভূমিহীনরা। ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে বেহাত হচ্ছে ওই সব সরকারি জমি।
উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক কাঞ্চন হাওলাদার গত ১৬ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা সদরের মূল্যবান খাস জমি এলাকার প্রকৃত ভূমিহীনরা না পেয়ে তা পাচ্ছেন সরকারি চাকুরীজীবি, প্রবাসী ও ধণাঢ্য ব্যক্তিরা। আর ওই সব জমি উপজেলা সদরের আশেপাশে থাকা অতি মূল্যবান খাস জমি।
অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলার বন্দোবস্তকৃত কৃষি খাস জমির পরিমান রয়েছে ২৬২.১২ একর। যা এক হাজার ৪৫৮ জন উপকারভোগী পরিবারের মধ্যে বন্দোবস্ত হিসেবে বন্টন করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ওই সব জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়েছে সরকারী কর্মকর্তা, বিত্তবান ও প্রতিষ্ঠিত ধনীদের।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের সরকারি কাউখালী কলেজের প্রভাষক সম্পা সাহা এবং তার স্বামী স্থানীয় প্রভাবশালী প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার তিতাস মন্ডলের নামে পৃথকভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ১০ শতাংশ জমি। তবে তিতাস মন্ডল জানান, তিনি এ জমির জন্য ৭/৮ বছর আগে আবেদন করেছিলেন।
এছাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) জাহিদুল ইসলাম রানার পিতা উপজেলা সদরের প্রতিষ্ঠিত বেকারী ব্যবসায়ী আ. রহিম খন্দকারের স্ত্রী রানু বেগমের নামে উপজেলার সুবিদপুর এলাকা থেকে দেয়া হয়েছে ১০ শতাংশ জমি। এ ব্যাপারে রহিম খন্দকার তার স্ত্রীর নামে ওই জমি থাকার তথ্য স্বীকার করেছেন। আর ওই জমি পেতে ছেলে রানা’র প্রভাব খাটানোর অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা সদরের দক্ষিন বাজারের মো. শাহ আলমের ছেলে শাসক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মো. বশির উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া এলাকার ২৬৩নং দাগের মূল্যবান ১০ শতাংশ জমি। খাস জমি পাওয়া বশির উদ্দিনের রয়েছে উপজেলা সদরের দ্বিতল বড় পাকা ভবন। তবে তিনি নিজের নামে কোন জমি না থাকার কথা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাস জমি বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশদের রয়েছে পাকা বাড়ি বা বহুতল ভবন।
ওই মুক্তিযোদ্ধা আরো জানান, তার বাসার সামনে রাস্তার পশ্চিম পাশে চিরাপাড়া টেম্পু ষ্ট্যান্ডে সরকারী জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে একটি সুদৃশ্য আধুনিক ভবন তৈরি করেছেন বন বিভাগে কর্মরত সরকারী চাকুরিজীবী রফিকুল ইসলাম মীর। তিনি আরো জানান, এই ভবন ছাড়াও আরো পাকা ভবন এবং সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়া আছে তার নামে। তবে এ ব্যাপারে জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয় নি। তবে তার ছোট ভাই খায়রুল ইসলাম মীর জানান, ওই জমিতে আমরা সব ভাইয়েরা মিলে ওই মার্কেটটি করেছি।
উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম, তার ছেলে মো. মামুন মোড়ল, মো. জাকির হোসেন মোড়ল, খোকন মোড়ল ও মেয়ে তারতিলা খানম নামের ধনাঢ্য একই পরিবারের ৫ সদস্যকে পৃথকভাবে দেয়া হয়েছে অতিমূল্যবান ওই সব খাস জমি।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাত আরা তিথি জানান, ওই সব জমি আমার সময়ের আগে বন্দবস্তো দেয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন অনিয়মের বিষয়ে এক মুক্তিযোদ্ধা একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি। তা এখনো হাতে পাইনি।
