মঠবাড়িয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় যুবলীগ নেতার কবজি কর্তন॥ গ্রেপ্তার-১
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান বিপ্লব (৪০) এর হাতের কবজি কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে উপজেলার আলগী বাজার সংলগ্ন মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আরও ২জন আহত এবং ৩টি মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ গুরুতর জখম বিপ্লবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুধবার রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ফরিদ নামের একজনকে রাতেই থানা পুলিশ আটক করেছে।
আহত বিপ্লব বেপারী সাফা গ্রামের নূর উদ্দিন বেপারীর ছেলে। তিনি ধানীসাফা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি। বিপ্লবের বড় ভাই বাচ্চু বেপারী ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বাচ্চু বেপারী বলেন, বুধবার সন্ধার পরে বিপ্লব ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদারের নৌকা মার্কার স্টীকার নিয়ে আলগী বাজারে দলীয় কার্যালয়ে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের (রফিক প্রফেসর) সমর্থক আলগী গ্রামের ফরিদ আকনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বিপ্লব বেপারীর ওপর হামলা করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথারী কুপিয়ে ফেলে রাখে যায়। এতে তার বাম হাতের কব্জি এবং ডান হাতের একটি আঙ্গুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া মাথা, পিঠ ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের কোপে একাধিক জখম হয়। স্থানীয় লোকজন আতংকে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদার বলেন, বিপ্লবের হাতের কব্জি জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। কব্জি ও একটি আঙ্গুল ফেলে দিতে হবে। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বিপ্লবকেকুপিয়ে জখম করেছে।
তবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উল্টো সন্ধ্যার পর করিম আকন স্কুল এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় নৌকা প্রার্থীর কর্মিরা তার দুই সমর্থককে আহত করে এবং তিনটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল জানান, হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
