শরণখোলায় দলিল লেখক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
বাগেরহাটের শরণখোলায় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আ. হাকিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারই চাচাতো ভাই দলিল লেখক মো. আ. রাজ্জাক হাওলাদার। সোমবার সকালে উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শরণখোলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আ. হাকিম হাওলাদার (সনদ নং-০৬/০৮) আমার আপন চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে আমি তার সেরেস্তায় সহকারী হিসাবে কাজ করে আসছিলাম। গত ২০১১ সালে আমি নিজ নামে সনদ প্রাপ্তির পর আলাদা সেরেস্তা নিয়ে দলিল লেখা আরম্ভ করি। এ ঘটনায় তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। এ ঘটনায় ২০১৭ সালে আমি তার বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি।
গত ২২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ রাজাপুর মৌজার এস.এ ১৪৪০ খতিয়ানের মালিক নুরুল ইসলাম দলিল লেখার জন্য আমার কাছে যাবতীয় কাগজপত্র দিলে আমি একখানা দলিল সম্পাদন করিয়া সাব- রেজিষ্ট্রারের কাছে উপস্থাপন করি। উক্ত খতিয়ানটি ভুল বলে বিষয়টি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে সাব- রেজিষ্ট্রারের কাছে সভাপতি আ. হাকিম আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিষ্ট্রার বাগেরহাট সদর সাব-রেজিষ্ট্রারকে বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়। তদন্তে গত ২৭ অক্টোবর স্বাক্ষ্য প্রমান ও সকল দলিল লেখকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে প্রমানিত হয়।
এছাড়াও আ. হাকিম আমাকে রেজিষ্ট্রি কাজ থেকে সুকৌশলে তাড়ানোর জন্য সমিতির সদস্যবৃন্দের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজুলেশন তৈরী করে জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসে দাখিল করে, এমনকি সেই রেজুলেশনে আমার স্বাক্ষর ও আমার সেরেস্তায় কর্মরত অপর দলিল লেখক সাব্বির হোসেনের জাল স্বাক্ষর রয়েছে।
আ. হাকিমের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের কারণে জেলা রেজিষ্টার আমাকে রেজিষ্ট্রি কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়।
এ ব্যাপারে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আ. হাকিম হাওলাদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। ওই রেজুলেশনে আ. রাজ্জাক নিজেই স্বাক্ষর করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।
বাগেরহাট জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মনিরুল হাসান জানান, দলিল লেখক আ. রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
