স্বরূপকাঠীতে কাজে আসেনি জাইকার অর্থায়নে দেয়া ৩০ লক্ষ টাকার এ্যাম্বুলেন্স সেবা
গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মুমূর্ষ রোগী পরিবহন করে দ্রুত চিকিৎসা সেবার লক্ষে কাজে আসেনি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সী (জাইকা) এর দেয়া ৩০ লক্ষ টাকার এ্যাম্বুলেন্স সেবা।
গত ১৯১৭-১৮ অর্থ বছরে নেছারাবাদ উপজেলায় জাইকা এর সহায়তায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০টি ব্যাটারিচালিত এ্যম্বুলেন্স এবং ১টি নৌ এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়। গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মুমূর্ষ রোগীদের উপজেলা সদরে এনে দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত সেবার লক্ষে ওই ব্যবস্থা করেছিল জাইকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি আর অবহেলায় এলাকার ময়লার বাগাড়ে পড়ে আছে আজ সেই ৩০ লক্ষ টাকার এ্যাম্বুলেন্সগুলো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বরূপকাঠী সদর ইউনিয়নের এ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে আছে একজন চৌকিদারের বাড়ীর গোয়াল ঘরের পাশে। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সের ভেতর ব্যাটারি, মটর, গাড়ীতে রোগীর জন্য ব্যবহারিত অক্সিজেন সিলিন্ডার কোন কিছুই পাওয়া যায়নি।
কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের এ্যাম্বুলেন্সটি পাওয়া যায় চেয়ারম্যানের অনুসারী স্বপনের বাড়ীর আম গাছ তলায় সে এ্যাম্বুলেন্সটির ভিতরের অবস্থা একই রকম।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন, সমুদয়কাঠী, সোহাগদল, সারেংকাঠী, সুটিয়াকাঠী ইউনিয়নের এ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থাও একই রকম। আর বলদিয়া, গুয়ারেখা এবং দৈহারি ইউনিয়নের এ্যাম্বুলেন্স তিনটি পাওয়া গেছে ইউনিয়নের হলরুমের মধ্যে। চালকের অভাবে সেগুলোও বিকল অবস্থায় পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ কিবরিয়া বলেন, গত ১৯১৭-১৮ অর্থ বছরে “জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো- অপারেশন এজেন্সীর (জাইকার)” সহায়তায় ১টি নৌ এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে এবং ১০ ইউনিয়নে ১০টি ব্যাটারিচালিত এ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে রোগী বহনের জন্য। কিন্তু কোন চালক বা ড্রাইভার না থাকায় এটি একদিনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। নৌ এ্যাম্বুলেন্সটি যে দিন দেয়া হয়েছে সেদিন থেকে ঘাটে বাধা আছে।
