মঠবাড়িয়ায় অস্বছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর প্রদানের তালিকা প্রনয়ণে অনিয়ম ॥ তদন্ত শুরু
মঠবাড়িয়ায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাঁকা ঘর বিতরণের লক্ষে তালিকা প্রনয়ণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পুনর্বাসনের পাঁকা ঘর বরাদ্দ পেলেও অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রী এ উপহারের ঘর প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
গতকাল সোমবার পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে দু:স্থ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্যসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বঞ্চিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সম্প্রতি পাকা ঘর বিতরণের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে শহীদ পরিবারের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক উজ-জামান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বরাবারে লিখিত অভিযোগ করেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক অভিযোগটি যাচাইয়ের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক আয় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা তারাই এ পাকা ঘর পাবার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে মঠবাড়িয়ায় অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে ঘর নিয়েছেন স্বচ্ছল ও যাদের সন্তানরা সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করেন। আরও অভিযোগ রয়েছে ঘর পেয়েছেন এক এ্যাসিল্যান্ড ও ইউএনও’র শ্বশুর মোস্তফা শাহ আলম দুলাল। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন পদে চাকুরী করা স্বচ্ছল সন্তানের পিতা শাহাদাৎ হোসেন রাজা, আব্দুল লতীফসহ বিভিন্ন স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নেয়ার তালিকায় নাম রয়েছে।
এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা শাহ আলম দুলাল বলেন, সঠিক নিয়মেই ঘর বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এ মহৎ উদ্যোগকে বিতর্কিত করতেই একটি মহল এমন অভিযোগ করছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. বাচ্চু মিয়া আকন সঠিক নিয়মে ঘর বিতরণের তালিকা করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মী ভৌমিক বলেন, পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন তদন্ত করছেন। স্বাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন।
