প্রধান সূচি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপির উন্নয়ন

নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ॥ স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে

আর আট দশটা সরকারী হাসপাতালের মতোই ছিলো পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিবেশ। ভেতরে বাহিরে নোংরা, অপরিচ্ছন্ন, দালালদের উৎপাত, সবার মধ্যে গা ছাড়া ভাব। এটা নেই ওটা নেই, অপারেশন হয় না, সেবার মান নিম্ন, এখন সেদিন পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন হাসপাতালের ভেতরে বাহিরে ঝকঝকে, কোথাও ময়লা আবর্জনা নেই। চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই সময়মতো হাসপাতালে আসে। সরকারী হাসপাতাল নিয়ে রোগীদের যে বিস্তর অভিযোগ, নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন আর তা নেই। মাত্র কয়েকমাস হলো হাসপাতালটির আমূল এই পরিবর্তন এসেছে। এর নেপথ্যে নায়ক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ফজলে বারী। অবশ্য তার দাবী তিনি শুধু চেষ্টা করছেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি’র কারণেই সম্ভব হয়েছে। সর্বপ্রথম তিনি এখানকার চিকিৎসক সংকটের সমাধান করেছেন। তাছাড়া হাসপাতালের যেকোন সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি আন্তরিকতার সাথে তা সমাধান করেছেন।

সরেজমিনে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকতেই চোখে পড়লো ছিমছাম সবুজ চত্বর। চিরচেনা আবর্জনার স্তুপ নেই। ময়লার ভাগাড় ছিলো প্রবেশ সড়ক ঘেঁষে। তা এখন ফল-ফুল ও ওষুধি গাছের বাগান। উৎকট গন্ধের বদলে বাতাসে ভেসে আসছে ফুলের সুবাস। মুল ফটক থেকে ভবনের সামনের চত্বর এবং পেছনে বৈদ্যুতিক ও সোলার বাতির আলোয় আলোকিত। ভবনে আউটডোরে দুটি টিকিট কাউন্টার। সামনে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের ভিড়। দুই টিকিট বিক্রেতার দম ফেলার ফুরসত নেই। হেল্পডেস্কের সামনেও ভিড়। হাসপাতালটির আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ও সিড়িতে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারী। রয়েছে আধুনিক অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স। অপরিস্কার ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে লাল-সবুজের সাইনবোর্ডে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্যবার্তা। রোগীদের সুপেয় পানির সমস্যা নিরসনে বহিঃবিভাগ, জরুরী বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে আধুনিক ও মানসম্মত পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ড্রেসকোডসহ পরিচয়পত্র। করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য ২০ শয্যাবিশিষ্ট ডেডিকেটেড কোভিট-১৯ ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন, পালস অক্সিমিটার, কার্ডিয়াক মনিটর, নেবুলাইজার, সাকার মেশিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালু করে করোনা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে এখানে। এছাড়া হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ওয়েটিং কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল এলইডি টিভি, যেখানে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য বার্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্যচিত্র এবং সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক উন্নয়ন কর্মকান্ডের চালচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তাতে অপেক্ষামান রোগীরা পাচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং অপেক্ষামান থাকার স্বাচ্ছন্দ। অন্তঃবিভাগের ওয়ার্ডে প্রবেশে বেশ কড়াকড়ি এখন। রোগী প্রতি একজন দর্শনার্থী থাকতে পারেন। হাসপাতালে দালালদের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। নেই ওষুধ কোম্পানীর লোকজনের অবাধ উপস্থিতিও। তারা হাসপাতালে ঢুকতে পারেন নির্ধারিত সময়ে। হাসপাতাল এলাকায় সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র।

এছাড়া এক সময় এখানে তেমন কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতো না। এমনকি ছোটখাটো অপারেশন পর্যন্ত হতো না এখানে। বর্তমানে এ হাসপাতালে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে সরকারী নামমাত্র খরচে। হচ্ছে সিজারিয়ান অপারেশনসহ নানা ধরণের অপারেশন। গত মাসে ১৬টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। নরমাল ডেলিভারী হয়েছে ৩২টি। তাছাড়া গরীব অসহায় গর্ভবর্তী মায়েদের সেবার জন্য ডিএসএফ ও ইওসি সেবা চালু রয়েছে।

কথা হয় উপজেলার গাওখালী গ্রামের রহিমা বিবির সঙ্গে। তার মেয়ে পারুলের সিজারে বাচ্চা হয়েছে। সে কারণে তার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনিও দুদিন ধরে হাসপাতালে মেয়ের কাছে রয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পেয়েছেন। সরবরাহ না থাকায় কিছু ওষুধ বাহির থেকে কিনেছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত তার মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নাজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু বলেন, এমন একট সময় ছিলো এ হাসপাতালে ঢোকার উপায় ছিলো না। মানুষ চিকিৎসা সেবা পেতো না, ছোটখাটো অপারেশনও এখানে হতো না। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের পার্শবর্তী ক্লিনিকে পাঠানো হতো। মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম স্থানীয় সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলেও ডা. ফজলে বারী যোগদান করার পর মন্ত্রীর উদ্যোগ, চেষ্টা ও আন্তরিকতা এবং ডা. ফজলে বারীর মেধা ও পরিশ্রমের কারণে হাসপাতালটি আজ একটি আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।

হাসপাতালটির আমূল পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারিগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারী। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারী তিনি যোগদান করেন এখানে। তারপর থেকেই বদলে যেতে থাকে এ উপজেলার ২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার এই প্রধান ভরসার জায়গাটি।

ডা. ফজলে বারী বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর আমার কর্মকালে সারাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইচএসএস রেটিংয়ে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একবার সপ্তম, একবার নবম ও একবার ১১ তম এবং বরিশাল বিভাগে নিমমিতভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। আমি শুধু চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাকে পরামর্শ ও লজিষ্টিকস সার্পোটসহ নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় সাংসদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও সিভিস সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকী। আমি চাই নাজিরপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরো মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন। যাতে এখাকার মানুষকে আরো অধিকতর উন্নত ও মানসম্মত সেবা দিতে পারি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial