প্রধান সূচি

নাজিরপুর উপজেলার কলাদোয়ানিয়া ইউনিয়ন :৮ বছরেও অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নটি প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে এখনো অবকাঠামোগত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নানা সমস্যা ও সংকটের মধ্য দিয়ে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম।
নাজিরপুর উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন নামে একটি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উপজেলার সবচেয়ে বড় ১১.৭১ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ৩নং পূর্ব দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নটি ভাগ করে এ ইউনিয়নটির জন্ম হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রয়াত শুধাংশু শেখর হালদার দেউলবাড়ী ইউনিয়নটি ভাগ করে দুটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছিলেন। তবে তৎকালীন সময়ে তিনি স্থানীয় এমপি না থাকায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সে সময় ইউনিয়নটি ভাগ করা সম্ভব না হলেও তিনি দেউলবাড়ী ইউনিয়নের একটি অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন হিসেবে আওয়ামী লীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আলাদা কমিটি করে ইউনিয়নটির সূচনা করেছিলেন।
এ ইউনিয়ন পরিষদটি গঠিত হওয়ার পর প্রথম ইউপি নির্বাচনে সাইদুর রহমান ঝান্টু চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় বারের নির্বাচনে হাসনাত ডালিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তার নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদের প্রায় তিন বছর ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অথচ এই ৮ বছরে এ ইউনিয়নটিতে কাঙ্খিত কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা পাচ্ছেনা ন্যুনতম নাগরিক সুবিধাটুকু। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি পর্যন্ত নেই। তাছাড়া এ ইউনিয়নে নেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ৮ বছরেও সরকারি অবকাঠমোগত কোন উন্নয়নই এখানে হয়নি।
রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। এ ইউনিয়নের আয়তন ৫ বর্গ কিলোমিটার, বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। একটি ডিগ্রী কলেজ, ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দু’টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে এখানে। ২ কিলোমিটার পাঁকা সড়কসহ ৪ কিলোমিটার ইটসলিং গ্রাম সড়ক রয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাটই কাঁচা হওয়ার বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বেশীরভাগ এলাকাতেই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের।
বর্তমান স্থানীয় সাংসদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ ইউনিয়নে উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়ায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন এ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি ব্রীজ-কালভাটসহ প্রায় ৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও অন্য ওয়ার্ডগুলোতে নেই কোন পাঁকা সড়ক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত ভাসমান কৃষিচাষ পদ্ধতির আবিস্কারক এই ইউনিয়নটির মানুষ। যে চাষাবাদ পদ্ধতি ইতোমধ্যে আর্ন্তজাকিত স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে কোন পর্যটন কেন্দ্র না থাকলেও ভাসমান কৃষিচাষ পদ্ধতি ও দেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট দেখতে প্রতিবছর হাজার-হাজার পর্যটক আসে এ ইউনিয়নের বৈঠাকাটা বাজারে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানান, বিগত দিনে এ নবগঠিত ইউনিয়নটির অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। বর্তমানে স্থানীয় সাংসদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম নির্বাচিত হওয়ার পর অবহেলিত এ ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যার মধ্যে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবনসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রী তাকে আস্বস্ত করেছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি সংক্রান্তে কিছু জটিলতা থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে বিলম্ব হয়েছে। তবে আশা করি খুব শীগ্রই ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial