প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রূপান্তরের আর্থিক সহায়তা প্রদান
বাগেরহাট ও খুলনায় মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়েপড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহে দুই হাজার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর। খুলনা মহানগর এবং বাগেরহাট পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের এই পিছিয়েপড়া নারী ও পুরুষদের আত্মনির্ভরশীল করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে। বাগেরহাটে এই নগদ অর্থ সহায়তার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
আর্থিক সহায়তা পাওয়াদের মধ্যে রয়েছে ঋষি, ডোম, খ্রিষ্টান, যৌনকর্মী, হিজড়া, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর লকডাউনসহ নানা কারণে নিম্ন আয়ের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। করোনাকালীন দুর্যোগে সরকার এই পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে খাদ্যসহ নানা সহায়তা দিয়েছে। সরকারের সহযোগিতা নিয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা রূপান্তর এই কর্মহীন মানুষদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আমরা বাগেরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সবচেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে বাছাই করে ৭৩৭ জনের তালিকা তৈরি করে প্রত্যেককে নগদ ৫ হাজার করে টাকা দিয়েছি। এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠি এই ক্ষুদ্র টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে ছাগল, হাঁস, মুরগি কিনে তা লালন পালন করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। তারা নিজেদের চেষ্টায় যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্যই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাগেরহাটে ৭৩৭ এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ১ হাজার ২২৩ জনকে মোট এক কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর।
বাগেরহাটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা প্রনয়ণ কাজের সহায়ক সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উন্নয়ন কর্মী রিজিয়া পারভীন বলেন, বাগেরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ঋষি, ডোম, যৌনকর্মী, হিজড়া, আদিবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা এই জনগোষ্ঠির মধ্যে অবহেলিত নারীদের প্রাধান্য দিয়েছি। এই অর্থ সহায়তা পাওয়াদের মধ্যে ৬০ ভাগই নারী। তারা যাতে এই ক্ষুদ্র সহায়তা নিয়ে হাঁস মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হতে পারে সেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অর্থ সহায়তা পাওয়া নারী বেলা রাণী দাস, বিমলা বাগচি ও তৈয়ব আলী বলেন, করোনার কারণে আমাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকদিন বেকার ছিল। দিন মজুরী, মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়ে যাই। এই বিপদের সময়ে এনজিও আমাদের অফেরযোগ্য নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়ায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। আমরা এই টাকা দিয়ে ছাগল, হাঁস, মুরগি পালন করে কিছু রোজগারের চেষ্টা করব।
