ইন্দুরকানীতে করোনায় কর্মহীন মানুষের ভিড় বাড়ছে
১৭ বছর ধরে ঢাকায় রিক্সা চালিয়েছেন ইন্দুরকানীর টগড়া গ্রামের নান্না হাওলাদার। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মিরপুর বাংলা কলেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাঁচ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দিয়েও ভালই চলেছে তার সংসার। নান্না হাওলাদার জানান, ‘করোনার লইয়া ঢাকায় আগের মত ইনকাম নাই। আবার বাড়ি ওয়ালাও রিক্সা চালাইলে বাড়িতে ঢোকতে মানা হরছে।’ তাই বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে পরিবার নিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য নিজ গ্রামে চলে এসেছেন নান্না। আত্মীয় স্বজনের সহায়তা নিয়ে কোন ভাবে দিন কাটছে তার। গ্রামেও তেমন কোন কাজ পাচ্ছেন না।
আবার ইন্দুরকানী গ্রামের ইমাম হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে ফেনীতে ভ্যানে করে মৌসুমি ফল বিক্রি করেছেন। করোনার প্রভাবে তাঁর ব্যবসাও বন্ধ। তাই স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্রামে চলে এসেছেন।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুল হক ছিলেন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি জানান, করোনার কারনে তার গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে গ্রামে ফিরে নিজ জমিতে ইরি ধান চাষ শুরু করেছেন। তার জমি চাষে সাহায্য করছেন তার মতই কয়েকজন কর্মহীন ব্যক্তি।
এভাবেই শহরের কর্ম হারিয়ে গ্রামমুখী মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা জুড়ে। বিকেল হলেই দেশের বিভিন্ন শহর থেকে আগত কর্মহীন মানুষের ভিড়ে জমজমাট থাকে গ্রামীণ হাটবাজারের চায়ের দোকানগুলো।
ইন্দুরকানী বাজারের চায়ের দোকানী হারুন অর রশিদ জানান, ‘ঢাকা, চট্টগ্রামে যারা চাকরি হরতো গত দুই মাস ধইররা হেরাই এহোন বেশি আয় মোর দোহানে।’
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইন্দুরকানী উপজেলার অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মরত ছিলেন। করোনার প্রভাবে তাদের মধ্য থেকে অনেকেই কর্মহীন হয়ে এলাকায় ফিরে এসেছেন। এসব কর্মহীণ ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজে নিযুক্ত হতে চায় তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
