ভিক্ষুক মোদাচ্ছের মিয়ার কি একটি নিজের ঘর হবে না !
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে চলছেন নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার জলাবাড়ী ইউনয়নের ৮০ বছরের বৃদ্ধ মোদাচ্ছের আলী। মোদাচ্ছের মিয়া ভিক্ষা করে পেট চালান। সংসারে তার আপন বলতে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বছর দশেক আগে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগে। একমাত্র ছেলে শারীরিক বিকালঙ্গ হওয়ায় সেও ভিক্ষা করে জীবন চালায় কোনোমতে। মোদাচ্ছের মিয়া ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভিক্ষুক মোদাচ্ছের আলী বলেন, একসময় তিনি খেয়া দিতেন। শরীরে নানা রোগশোক বাসা বেঁধে তিনি অচল হয়ে পড়েন। বয়সের ভারে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালান। মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েছেন অন্যের জায়গায়। তাই অনেক কষ্ট করে জমানো ভিক্ষার টাকায় তিনি সাড়ে চার শতক জমি কিনিছেন। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরের কথা শোনেন মোদাচ্ছের। তখন থেকেই একটি ঘরের জন্য মনে মনে স্বপ্ন বুনেন তিনি। সেই থেকেই ঘুরে ঘুরে ভিক্ষার সাথে তিনি একটি ঘরের জন্য অনুনয় বিনয় করে আসছিলেন সমাজপতিসহ বিভিন্ন জনের কাছে।
তিনি বলেন, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর পাবেন বলে উপজেলা পিআইও অফিসে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজও জমা দিয়েছিলেন। তখন তিনি ঘরের আশায় খোলা আকাশের নিচে ক্রয়কৃত জমিটুকুতে পূনরায় তার জমানো ১০ হাজার টাকায় একটি ভিটিও তুলেছেন। তবে, সে ঘর আর তিনি পাননি। জুটেনি তার ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর। ঘর না পাওয়ায় তার তৈরী করা সেই ভিটি এখন ধীরে ধীরে বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নামছে। এই দৃশ্য তার কাছে অতিই কষ্টকর বলে জানান।
ইউপি সদস্য মাসুম মিয়া বলেন, ঘর দেওয়ার ব্যাপারে আমি কেউ নই। ঘর আসে চেয়ারম্যানের সুপারিশে আর মন্ত্রীর কোঠায়। যে পারে সে তদবির করে ঘর নিয়ে আসে। তবে ওই ভিক্ষুকের একটা ঘর খুবই দরকার বলে তিনি জানান।
