বাগেরহাটে ৯৭৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত
সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে বাগেরহাটে ঘূর্ণি বাতাস ও বৃষ্টি
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ধেঁয়ে আসার খবরে আজ মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয় সে জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, এবার করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাওয়ায় জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আগের মতো লোক গাদাগাদি করে রাখা যাবেনা। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলার সব উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলায় মোট ৯৭৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরাকার এ জেলার জন্য ২০০ মেট্রিকটন চাল, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, নগদ ৩ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা, গো খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলায় রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, সিপিপির মোট ১১ হাজার ৭০৮ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ৮৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে ।
এদিকে, জেলার সকল উপজেলায় সকাল থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মোংলা, শরণখোলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে। মোংলা বন্দরে অবস্থানরত ১১টি জাহাজকে বন্দরের মূল চ্যানেল থেকে সরিয়ে নিরাপদে রাখা হয়েছে।
শরনখোলা উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডার বেড়িবাঁধের সাউথখালী ইউনিয়নের গাবতলা ও বগি এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ রিং বাঁধসহ ডাম্পিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে যে শক্তিশালী ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে তাতে যে কোন সময় বাধ ভেঙ্গে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আতংকে রয়েছে গাবতলা ও বগি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
সুন্দবনের পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও বেলায়েত হোসেন জানান সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের ১০টি স্টেশন ও টহল ফাড়ির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশ^বর্তি বন অফিসে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একই সাথে সুন্দরবনে অবস্থানরত সকল কর্মচারীদের সর্তক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর সতকর্তা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সকল জাহাজের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ৭ নম্বর সতকর্তা সংকেত জারি করার পরে জরুরী সভা করছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের পক্ষ থেকে কন্টোলরুম খোলা হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন বলেন, বন্দরের নিজস্ব একটি সতর্ক সংকেত রয়েছে। আমাদের সতর্ক সংকেতের সর্বোচ্চ মাত্রা ৪। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারির পরে আমরা বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেত ৮ এ পৌছালে বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ৪ জারি করা হবে। বন্দরের জাহাজগুলোকে নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে। সকল জাহাজের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এসব আদেশ জারি থাকবে বলেও জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।
বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ দেশি বিদেশি মোট ১১টি জাহাজ অবস্থান করছে।
