অবশেষে নাজিরপুরের সেই ইউএনও’র বদলী ॥ জনমনে স্বস্তি
ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোজী আকতারকে বদলি করা হয়েছে। তার এ বদলীর সংবাদে উপজেলা জুড়ে জনমনে স্বস্তি নেমে এসেছে। ইউএনও রোজী আকতারকে নাজিরপুর থেকে ঝালকাঠী সদর উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সোমবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বদলী করা হয়।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন ইউএনও রোজী আকতারের বদলির বিষয় নিশ্চিত করে জানান, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরীর গত ৩ ফেব্রুয়ারী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে আদেশে এ পেয়েছি।
ইউএনও রোজী আকতার নাজিরপুরে যোগদানের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারী কাজের বিলের স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত হারে কমিশন আদায়, ৪০ দিনের কর্মসূচির বিলের জন্য স্বাক্ষরে কমিশন নেয়া, টিআর-কাবিখা’র জন্য নির্ধারিত হারে কমিশন নেয়া, উপজেলার বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত মেরামতের টাকা থেকে কমিশন গ্রহণ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে উপজেলা পরিষদের সরকারী কাজে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে ইতোপূর্বে পিরোজপুর কন্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে একাধিক প্রকাশিত হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে দফাদার ও মহল্লাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গত ১ ডিসেম্বর ইউএনও রোজী আক্তারের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া গত ২৭ জানুয়ারী এডিপি’র প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের পূর্ব নির্ধারিত একটি সভা ইউএনও রোজী আকতার ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে অশোভন আচরণ করায় উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানরা তাকে বয়কট করে উপজেলা পরিষদের সকল সভায় অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।
এদিকে, ‘জমি আছে, ঘর নাই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পে অনিয়মসহ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত অস্থায়ী ভিক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক মোহাম্মদ আলীর মাধ্যমে তিনি এ প্রকল্পে নানা অনিয়ম করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খান জানান, ইউএনও রোজী আকতারকে টাকা দেয়া ছাড়া কোন ফাইলেই স্বাক্ষর হতো না। টিআর-কাবিখা, ৪০ দিনের কাজসহ সকল কাজেই তাকে নির্ধারিত কমিশন না দিলে তিনি বিলে স্বাক্ষর করতেন না। তার বদলির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আকতারের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
