নাজিরপুরে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
- পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ সামাজিক বনায়ণের গাছ আত্মসাতের ঘটনায় ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে বলে তিনি দাবী করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাজিরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবী করেন।
- সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের তৈয়বেরহাট হতে মাস্টার মোহাম্মদ আলীর বাড়ী ও চালিতাবাড়ী মোসলেম মিয়ার বাড়ীর সামনের ব্রীজ হতে উত্তর হোগলাবুনিয়া তরুয়াবাড়ী পর্যন্ত রাস্তার সামাজিক বনায়ণের উপকারভোগীদের সভাপতি। গত ১১ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে ওই সড়কের বেশ কিছু গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান গাউসকে অবগত করেন। তখন তারা স্থানীয়দের সহায়তায় রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার সরকারী নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান এবং ওই গাছ গুলোর তালিকা করে হেফাজতে রাখার পরার্মশ দেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণ ও উপকারভোগীদের সহায়তায় গাছগুলো অপসারণ করে নিদিষ্ট স্থানে রাখা হয়। সেখান থেকে ওই গাছগুলো বেহাত হওয়ার আশংকা থাকায় বিষয়টি বনবিভাগকে অবগত করলে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী গাছগুলো বনবিভাগের হেফাজতে নেয়ার জন্য উপকারভোগীদের নিয়ে ১৫ নভেম্বর রেজুলেশন করে উপজেলা বনপ্রহরী কামাল হোসেনের কাছে জমা দেই। বনবিভাগ সেখান থেকে ওই গাছ তাদের হেফাজতে না নিয়ে বনপ্রহরী কামাল হোসেন গাছগুলো আত্মসাত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। কামাল হোসেনকে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী গাছ আত্মসাত করতে সহায়তা না করায় তিনি জামায়াত বিএনপি’র পদধারী স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিকে দিয়ে গত ২৬ জানুয়ারী বন সংরক্ষণ, সামাজিক বন অঞ্চল, যশোর বরাবরে ওই গাছগুলো আমি আত্মসাত করেছি বলে লিখিত অভিযোগ করান। যা মিথ্যা ও ভিক্তিহীন এবং আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। অথচ গাছগুলো এখনো যেখানে সংরক্ষিত ছিলো এখনো সেখানেই রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারী জামায়াত বিএনপি’র তান্ডবসহ বিভিন্ন ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাছাড়া উপজেলা বন বিভাগের বনপ্রহরী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে রয়েছে বনায়ণের গাছ আত্মসাতের একটি সিন্ডিকেট।
- ঘটনার বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে বনপ্রহরী কামাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে বনায়ণের গাছ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়। তবে হাবিবুর রহমানের হেফাজতে থাকা গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় রাখা হয়েছে।
- নাজিরপুর উপজেলা ফরেষ্টার মো. ইউসুফ বলেন, আমার পোস্টিং ভান্ডারিয়ায় পাশাপাশি নাজিরপুর ও কাউখালীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি। তাই সব বিষয়ে আমার পক্ষে খোঁজ রাখা সম্ভব হয় না। তবে বনপ্রহরী কামালের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে আমি কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।
Please follow and like us:
« বাগেরহাট প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত (পূর্ববর্তি সংবাদ)
(পরবর্তি সংবাদ) পাইকগাছায় উৎসব মূখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত »
