বাগেরহাটে বিএনপির নবগঠিত জেলা আহবায়ক কমিটির প্রথম সভা সুপার ফ্লপ
বাগেরহাটে বিএনপি’র নবগঠিত জেলা আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভাতেই হোচট খেলেন জেলা বিএনপি’র নবগঠিত আহবায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। গত ২১ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির অনুমোদিত নতুন আহবায়ক কমিটির ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট সদস্যের প্রথম সভা গত ১৮ জানুয়ারী বাগেরহাট বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিমের সভাপতিত্বে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলমকে পাত্তা না দিয়ে আহবায়ক নিজেই কমিটির সাংগঠনিক মিটিং ডাকার কারণে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির মাত্র ১২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আহ্বায়কের একতরফা সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষন করে জেলা কমিটির সদস্য সচিব জনাব মোজাফ্ফর রহমান আলম তার অনুগতদেরকে নিয়ে সভা বর্জন করেন। এমন অবস্থায় বাগেরহাট বিএনপি এক চরম সংকটময় মুহুর্ত পার করছে।
নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব মোজাফ্ফর রহমান আলম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি জননেতা এমএ সালাম ২০০৯ সালে জেলার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১/১১ সময় থেকে তিনি দলকে সুসংগঠিত করে আসছেন, তার নেতৃত্বে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে বাগেরহাট বিএনপি শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনিসহ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা বাবু, জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট ওহিদুজামান দিপু, এস্কেন্দার হোসেন, এডভোকেট আসাদুজ্জামান, এডভোকেট হাই, এডভোকেট মনোয়ার হোসেন, এডভোকেট আলতাফ হোসেন, মাহাবুবুল রহমান টুটুল, মতিয়ার খান, জেলা তাতী দলের সভাপতি এডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মেহবুবুল হক কিশোর, বাবু মোল্লা, এডভোকেট সহিদসহ বহু নেতা-কর্মী মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মামলা হামলার শিকার হওয়া জেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে আহবায়ক কমিটিতে অন্তভূক্ত না করাসহ আহ্বায়কের খামখেয়ালিপনা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই এই সভা বর্জন করা হয়। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আহবায়কসহ তার অনুগতদের ২০০৯ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত হামলা বা মামলার শিকার হয় নি।
নেতা কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে কখনও তালিম সাহেবকে মিছিল করতে শহরে দেখা যায় নি। তার আরো বলেন, ১৯৯৬ নির্বাচনে সাবেক মহাসচিব আ.স.ম মোস্তাফিজুর রহমানের পরাজয়ের ও ভরাডুবির নায়ক হিসেবে আকরাম হোসনে তালিমকে দায়ী করে জেলার নেতাকর্মীরা। তিনি ৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন নেতা-কর্মীর সাথেও যোগাযোগ রাখেননি। হঠাৎ করে বিএনপির আহব্বায়ক হওয়ায় আমরা হতাশ। এমনকি গত তিন মেয়াদের কমিটিতে বড় পদে থাকলেও কোন কার্যক্রমে দেখা যায় নি তাকে।
