প্রধান সূচি

ইন্দুরকানীতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে নিয়ে যুবলীগ নেতার তান্ডব

ইন্দুরকানীতে একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনে হেরে পরাজিত প্রার্থী যুবলীগ নেতা মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে।

জানা যায়, বুধবার সকালে উপজেলার উত্তর-পশ্চিম কলারণ আজাহার আলী দাখিল মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও পরাজিত প্রার্থী সাবেক সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান তার দলবল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে শ্রেণি কক্ষের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে। হামলার সময় অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীরা মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ম্যানেজিং কমিটির খাতাপত্র, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের হাজিরা খাতা লুট করে নিয়ে যায় এবং মাদ্রাসার সুপারকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারী ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহন হয়। নির্বাচনে যুবলীগ নেতা ৯ ভোটের মধ্যে ২ ভোট এবং অপর প্রার্থী আবু মোহাম্মদ হাওলাদার ৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে। এতে যুবলীগ নেতা খুবই উত্তেজিত হয় এবং ওই দিনই বাকবিতন্ড করে। এরই জের ধরে বুধবার যুবলীগ নেতা তার দলবল নিয়ে ন্যাক্কারজনক ভাবে ওই মাদ্রাসায় তান্ডব চালায়।

ওই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী আনিকা, হামিদা, ৯ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন, ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ ও বুশরা জানান, সভাপতি মিজানুর রহমান ও তার লোকজন দাও ও লাঠি নিয়ে আমাদের মাদ্রাসায় হামলা চালায় এবং ভাংচুর। এসময় ভয়ে আমরা পালিয়ে আসি।

প্রত্যক্ষদর্শী শামসুল হক হাওলাদার, খোকা হাওলাদার, হারুন হাওলাদার জানান, সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান হাওলাদার বুধবার সকালে তার দলবল সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে।

এব্যাপারে উত্তর-পশ্চিম কলারণ আজাহার আলী মাদ্রাসার মোঃ আঃ ছালাম জানান, সাবেক সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান বুধবার সকালে মাদ্রাসায় এসে আমার কাছে বলে আমি নির্বাচনের সকল কাগজপত্র ও ছাত্র-ছাত্রীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা বের করে দেখানোর সময় সে আমার হাত থেকে সকল কাগজপত্র টেনে নিয়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা সহ সকল কাগজপত্র নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে আমাকে হাত দিয়ে বুকে সজোরে আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কিছুক্ষণ পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি ওই সভাপতি সহ তার দলবল হাতে দাও নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে শ্রেণি কক্ষের বেঞ্চ, টেবিল, চেয়ার ভাংচুর করে এবং তান্ডব চালায়। তাদের ভয়ে আতংকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমি মাদ্রাসায় গিয়ে হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে সুপার হাজিরা খাতা দেখায়। এ সময় বাহির থেকে এসে স্থানীয় শামসুল হক, খোকা, হারুণ সহ অনেকে আমার মোটর সাইকেল তালা দিয়ে আটকে দেয়। এ খবরশুনে আমার মা ও ভাইরা আসলে ওরা হামলা করে তাতে আমার মা আহত হয়। এ ছাড়া  আমি সুপার ও মাদ্রাসা উপর হামল করি নাই কোন খাতাপত্র নেই নাই।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ হাবীবুর রহমান জানান, একটি মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি। মাদ্রাসায় কয়েকটি চেয়ার ভাংচুরের খবর পেয়েছি। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial