শরণখোলায় বিধবার ঘর দখল ॥ মেয়ের শ্লীলতাহানী
বাগেরহাটের শরণখোলায় এক বিধবার বসতঘর প্রকাশ্যে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। এ সময় প্রতিপক্ষদের বাঁধা দিতে গেলে ওই বিধবার যুবতী মেয়ের শ্লীলতাহানি করেন দখলবাজরা। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ সোমবার সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলার সোনাতলা এলাকায়। একই দিন দুপুরে আহত ওই যুবতীকে উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বিধবা শাহিনুর বেগম (৪৫) তার একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুসহ লুটে নেয়া বসতঘরের প্রয়োজনীয় আসবাপত্র ফিরে পেতে শরণখোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শাহিনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমার কোন জমিজমা না থাকার কারণে ১১নং শরনখোলা মৌজার ৪৯১৫ দাগের ১নং খাস খতিয়ান থেকে প্রায় দুই বছর পুর্বে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থায়ী বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হন এবং তহশীলদার ২৫ শতক জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেন। সেই থেকে সন্তানদের নিয়ে একটি দোচালা টিনের ঘরে শান্তিপুর্নভাবে বসবাস করে আসছিলাম। শাহিনুর বেগম মডেল বাজারে চা বিক্রি করে ৪ সন্তান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ওই জমির উপর লুলোপ দৃষ্টি ফেলেন স্থানীয় প্রভাবশালী সুন্দরবনের হরিন শিকারিদের সহযোগী আমিনুল মাতুব্বর। হঠাৎ করে সোমবার সকালে আমিনুলের নেতৃত্বে কাঞ্চন বয়াতী (৪০), শাহাদাত মোল্লা (৩৫), লিটন বয়াতী (২৫), মিজান হাওলাদার (৩৫)সহ ৭/৮ জন জোটবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। ওই সময় আমরা তাদের বাঁধা দিলে আমাদের পিটিয়ে আহত করে বসতঘর দখল করার পাশাপাশি আমার যুবতী মেয়ের শরীরে হাত দিয়ে লাঞ্ছিত করে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ট বিচার চাই।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ কাঞ্চন বয়াতি বলেন, শাহিনুরের ওই জমি আমরা কয়েক বছর আগে ইজারা নিয়েছিলাম এবং তার মেয়ের সাথে কোন খারাপ আচারণ করা হয়নি। আমাদের জমিতে অন্যায় ভাবে থাকায় তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, ওই জমি বিধবা শাহিনুরের। আমিনুল মাতুব্বরের দাবী অযৌক্তিক।
শরণখোলা থানর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
