কাউখালীর দুই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২২ শিক্ষকের পদ শূন্য ॥ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা দুই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান চালু রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে। উপজেলার সরকারি এস.বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ১৭টি পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য। সরকারি কে.জি.ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬টি পদের মধ্যে ১১টি পদও শূন্য রয়েছে। দুইটি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। শিক্ষক সংকটের কারণে দুইটি বিদ্যালয়ই হয়ে পড়েছে অতিথি শিক্ষকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এরপরও জে.এস.সি ও এসএসসিতে ফেল ঠেকানো যাচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। পড়ালেখার মানও নিম্নমুখী।
সরেজমিন বিদ্যালয় দুইটিতে গিয়ে শিক্ষক সংকটের এই চিত্র পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
সরকারি এস.বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদসহ ১৭টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ধার নিয়েছেন ৫ জন অতিথি শিক্ষককে। এ অবস্থায় কোন মতে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে এই শূন্যতা। সেই সঙ্গে তৃতীয় শ্রেনীর একজন ও চতুর্থ শ্রেণির ৩ জন কর্মচারী পদ শুন্য। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে এসএসসি’র ফলাফলও ভালো করতে পারছে না। শিক্ষক-সংকটের কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, উপজেলার সরকারি কে.জি.ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটও প্রকট। শিক্ষকের ১৬টি পদের মধ্যে আছেন কেবল ৫ জন। প্রধান শিক্ষকের পদসহ বাকী ১১টি পদই শূন্য। এরমধ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিতের একটি পদসহ হিসাব বিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম বিষয়ক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবর তালুকদার বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান চালু রাখাও দায় হয়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কখনও কখনও দুইটি ক্লাসকে এক সঙ্গে করেও পাঠদান করা হয়। অস্থায়ীভাবে শিক্ষক দিয়ে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। শিক্ষক-সংকটের কথা বহুবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
