মোড়েলগঞ্জের হেড়মা বাজারে প্রকাশ্যে স্কুল ছাত্রীকে পেটালেন গ্রাম পুলিশ
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের হেড়মা বাজারে ১০ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী বিথী আক্তার (১৫)কে মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে পেটিয়েছেন গ্রাম পুলিশ মনির হাওলাদার। আহত ওই ছাত্রী বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও ওই ছাত্রীর পরিবার পায়নি কোন সঠিক বিচার। হামলাকারীদের অব্যাহত হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত ওই স্কুলছাত্রীর পরিবার। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার সকালে তেলীগাতির হেড়মা বাজার এলাকায়।
ভূক্তভোগী ওই ছাত্রীর পিতা বেল্লাল খান জানান, তার মেয়ে বিথী সুরেন্দ্রনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথিমধ্যে পারিবারিক পূর্ব দ্বন্দ্বের জের ধরে হরগাতি গ্রামের আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে গ্রাম পুলিশ মনির হাওলাদার ও তার সহযোগী শাখাওয়াত ফকির বিথীকে পথরোধ করে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে এলোপাথারি মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। ওই ওয়ার্ডে ছিদ্দিক মেম্বর এর উপস্থিতিতে এই হামলা করে ওই চৌকিদার ও তার সহোযোগীরা। আহত অবস্থায় ওই ছাত্রী বিষয়টি শিক্ষকদেরকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য বাগেরহাটে ভর্তি করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিক ঘটনাটি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে স্কুলে একটি বৈঠক বসায়। বৈঠকে কোনমতে দায়সারাভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে এড়িয়ে যান কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিকুঞ্জ বিহারী জানান, তার স্কুলের ছাত্রীকে মারপিটের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন। পরবর্তীকে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবেনা বলে চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবককে আশ্বস্ত করেন।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, স্কুল ছাত্রীকে আহত ঘটনা তিনি অবহিত নন। তবে এ ধরনের অপরাধ যে ঘটিয়েছে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার বলেন, স্কুল ছাত্রীর ওপর হামলার বিষয়টি শুনে তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে অবহিত করেছেন তিনি। গ্রাম পুলিশ মনির হাওলাদার বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে ঘটনা সাজানো হয়েছে। সকালে তার মাকে মারপিট করেছে ওই ছাত্রী ও তার বোন।
