মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত-৪
নাজিরপুরে ইউপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর ॥ মামলা দায়ের
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার নবগঠিত কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা, মারপিট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় মুক্তিযোদ্ধা আবুয়াল, বাবুল, মনির ও জাহিদ নামে চারজন আহত হয়েছে। আহতদের ওই রাতেই স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান বাবুল বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনায় জড়িত কাউকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্থানীয় আব্দুল হকের নেতৃত্বে সাইফুল ইসলাম ও আরেফিন ইসলাম ৮/১০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় ওই কার্যালয়ের কেয়ারটেকার বাবুল বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে। তার চিৎকারে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকজন তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা ওই মুক্তিযোদ্ধাকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং আরো দুজনকে মারধর করে। সন্ত্রাসীরা অস্থায়ী কার্যালয়ের একটি কাঠের ঘর ভাংচুর করে ফেলে দিয়ে তাদের পূর্বে তৈরী করা একটি কাঠের ঘর সেখানে স্থাপন করে এবং ইউপি কার্যালয়ের নির্মাণাধীন পাকা ভবনের একটি কক্ষে ঢুকে সেখানে থাকা একটি সরকারি ল্যাপটপ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যদের খুন জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানান, নবগঠিত এ ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি কোন কার্যালয়ে নেই। পরিষদের নিজস্ব সম্পত্তি থাকলেও সেখানে এখনো সরকারিভাবে কোন ভবন করা হয়নি। এ কারণে তিনি তার ব্যক্তিগত জায়গায় একটি অস্থায়ী কার্যালয় করে সেখানে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ওই অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশেই স্থানীয় আব্দুল হক কোন প্রকার সরকারি অনুমোদন না নিয়ে একটি স-মিল, একটি ডকইয়ার্ড ও একটি বেকারী স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এমনকি ওই ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইন্সেসও নেননি। ইউপি কার্যালয়সহ একটি আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো চলার কারণে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনাসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক বসবাসে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তাকে অবগত করা হয়। এ কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ কার্যালয়টি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
ঘটনার পর থেকে ঘটনায় জড়িতরা পলাতক রয়েছে। নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
