এক দেশে দুই নিয়ম !
মোংলা বন্দরে হচ্ছে শতভাগ পণ্য পরিক্ষা
দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে আমদানী-রপ্তানী পণ্যে মাত্র ১০ ভাগ র্যান্ডডাম সিলেকশনের মাধ্যমে কাস্টমস কাইক পরিক্ষণ করলেও মোংলা বন্দরের জন্য রয়েছে ভিন্ন নিয়ম। মোংলা বন্দরে আসা পণ্য শতভাগ পরিক্ষা করায় এ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১০ ভাগ পণ্য পরিক্ষার নির্দেশনা মানছে না মোংলা বন্দর কাস্টমস হাউজ। এতে করে মোংলা বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় দেশের আমদানী রপ্তানী বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা সরকার।
চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা আইসিডি, পানগাও, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ দেশের সকল আন্তর্জাতিক বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা আমদানী ও রপ্তানী পণ্য আনা নেয়া করে থাকেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক আদেশে এসব পণ্যের মাত্র ১০ ভাগ র্যানডাম সিলিকশনের মাধ্যমে পরিক্ষনের জন্য কাস্টমসকে নির্দেশ দেয়। বছরের পর বছর ধরে এনবিআরের এই নির্দেশনা জারী থাকলেও দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর মোংলায় চলছে তার উল্টো নিয়ম। মোংলা কাস্টমস হাউজ এই বন্দর থেকে আমদানী রপ্তানী পণ্যে ১০ ভাগ পরিক্ষণ না করে শতভাগ পরিক্ষণের নিয়ম চালু রেখেছে।
বিএনপিÑজামায়াত জোট সরকারের আমলে মৃত্যুপ্রায় এই বন্দরকে সচল করতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেয়ার ১১ বছর পর এখনোও মোংলা বন্দরে শতভাগ পণ্য পরিক্ষণের নিয়ম অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও এনবিআরের আদেশ মানছে না মোংলা কাস্টমস হাউজ। এ অবস্থায় দেশের বড়-বড় আমদানী রপ্তানীকারকরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সক্ষমতা থাকার পরেও দেশের আমদানী রপ্তানী বানিজ্যে অন্যান্য বন্দরের তুলনায় অনেকাংশে পিছিয়ে পড়ছে মোংলা বন্দর।
মোংলা বন্দর ব্যহারকারী ও বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি’র সভাপতি শেখ লিয়াকত হোসেন লিটন মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকে বলেন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা কাজে লাগাতে দ্রুত খালাস পদ্ধতি ও ১০ ভাগ পণ্য পরিক্ষণের এনবিআরের আদেশ ৪৭ ও ৪৮ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যে এক দেশে দুই নিয়ম থাকতে পারে না। এছাড়া এই বন্দরে এলসিএল কার্গো আনার জন্য মোংলা বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বার বার অনুরোধ করার পরও কোন পক্ষ থেকে সাড়া না মেলায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে চট্রগ্রাম বন্দরে এলসিএল পণ্য আমদানী করছে। আর এ কারণে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের উপর থেকে চাপ কমানোসহ আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা কাজে লাগেতে দ্রুত এই বন্দরের সকল পণ্য এনবিআরের নির্দেশনা মতে ১০ ভাগ র্যান্ডডাম সিলেকশনের মাধ্যমে পরিক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই বন্দর যখন লাভজনক বন্দরে পরিনত হচ্ছে, তখন প্রশাসনে বিএনপিÑজামায়াত আর্দশের কর্মকর্তারা এ বন্দর ঘিরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র এখনই বন্দ করা না গেলে মোংলা বন্দর আবারো হুমকির মুখে পড়তে পারে আশংকা এই ব্যবসায়ী নেতার।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কাস্টমস কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ^াস বলেন, মোংলা বন্দরে আমদানী-রপ্তানী পণ্য ১০ ভাগ পরিক্ষনের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে হলে এখন এনবিআরকে নতুন করে নির্দেশনা দিতে হবে। কারণ আগে থেকেই মোংলা বন্দরে শতভাগ পণ্য পরিক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কাস্টমসের একার পক্ষে এই বন্দরে শতভাগ থেকে ১০ ভাগ পণ্য পরিক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। এনবিআরই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
