প্রধান সূচি

ঘুষের টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় জেলেকে মারধর

ঘুষের টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় সাগরে এক জেলেকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম সুন্দরবনের নীল কমল ক্যাম্পের ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শ্যাম প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ওসি শ্যাম প্রসাদ রায় বলেন, ‘মানুষ মাত্রই তো ভুল, এ নিয়ে আবার নিউজ কেন করবেন।’

এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে আহত জেলে হান্নান বিভাগীয় বন কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বসির আল মামুন বলেন, যতদ্রুত সম্ভব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মনিপুর গ্রামের মৃত রজব আলী গাজীর ছেলে জেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজী জানান, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের পাস পারমিট নিয়ে ১২ মাসই তারা সাগরে মাছ ধরেন। আর এজন্য তারা (জেলেরা) বন বিভাগের দুবলা অফিসে নিয়মিত রাজস্বও প্রদান করে থাকেন। তবে সাগরে যেতে জেলেদেরকে পশ্চিম সুন্দরবনের নীল কমল ক্যাম্পের সামনে দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এ কারণে নীল কমল ক্যাম্পের ওসি শ্যাম প্রসাদ রায় প্রতি গোনে ঘুষ বাবদ (অমাবশ্যা ও পূর্ণিমা) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকেন। এদিকে সর্বশেষ গত অমবশ্যার গোনে জেলে হান্নানের নিয়ন্ত্রনাধীন ৩০টি নৌকার জন্য ওসিকে ঘুষ বাবদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে আগাম ৯০ হাজার টাকা দিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। বাকী ৭০ হাজার টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে জেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজীকে বেধড়ক মারধর করে জখম করে বাকী টাকা নিয়ে নেন ওসি শ্যাম প্রসাদ রায়। এ সময় ওসি এবং তার অফিস ষ্ট্যাফ ইকরাম ও মঞ্জু হান্নানের নৌকাগুলো থেকে প্রায় ৩০০ পিস ইলিশ মাছ নিয়ে যায় বলেও হান্নান অভিযোগ করেছেন। পরে মারধরের শিকার হান্নান গাজীকে আহত অবস্থায় তার সাথে থাকা জেলেরা খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ওসি শ্যাম প্রসাদ রায় খুলনার কয়রার জেলে গনি, খালেক, রাজ্জাক, সাইদ, ইসহাক, আজিজুল ও ডুমুরিয়ার শংকর, সুধান্ন ও দিলিপের কাছ থেকে মাছ ধরা বাবদ নিয়মিত নির্দিষ্ট অংকের ঘুষের টাকা আদায় করে থাকেন। তার দাবীকৃত টাকা না দিলে তিনি নানা অজুহাতে মামলা দিয়ে জেলেদের অহেতুক হয়রানি করে থাকেন বলেও ভুক্তভোগী জেলেরা জানান।

এদিকে ওসি শ্যাম প্রসাদ রায়ের মারধরের শিকার আহত জেলে মো. আব্দুল হান্নান গাজী পশ্চিম সুন্দরবনের (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) ডিএফও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ওসি শ্যাম প্রসাদ রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি মারধরের বিষয়ে বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল, এ নিয়ে আবার নিউজ করবেন কেন।’ তবে জেলেদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আসেন স্বাক্ষাতে কথা বলবো। আর বিষয়টি সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহ স্যার সব জানেন।

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সদরের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহ বলেন, এ বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নিয়ে জানাবো। পরে তিনি আর ফোন ধরেন নি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial