প্রধান সূচি

ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেল ৩ শিশুর

অবশেষে ৯ মাস পর তিন শিশু ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরল মা বাবার কোলে। তিন শিশু  ভারত থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মা বাবার সাথে বাংলাদেশে ফিরছিল কিন্তু মা বাবাসহ শিশু তিনটিকে ভারতীয় পুলিশ আটক করে। মা বাবাকে আলাদা জেলে এবং শিশু তিনটিকে পৃথক পৃথক জেলে পাঠায়। এক মাস পর মা বাবা মুক্তি পেলেও শিশু তিনটি কোথায় আছে তার কোন সন্ধান পায়নি তারা। পরে বাংলাদেশে ফিরে এসে তারা তাদের সন্তান ফেরত পাবার জন্য দেশের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে কোন ফল না পেয়ে ইন্দুরকানী প্রেসক্লাবে এসে সন্তানদের পিতা নান্টু ফরাজী ভারত থেকে জেল খেটে ফেরাসহ তিন  সন্তানের কথা বলেন।

এ বিষয়ে তখন দৈনিক পিরোজপুর কন্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিশু তিনটির ছবিসহ সকল তথ্য মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের যোগাযেগের ফলে দুই দেশের সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে গত শনিবার শিশু রায়হান (৯), সোমবার তানিয়া আকতার (১৩) ও হেনা আকতার (১১)কে  ভারতীয় বিএসএফ বেনাপোল চেকপোষ্টে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড ক্যাম্পে  হস্তান্তর করে। বর্ডার গার্ড  বাংলাদেশের সদস্যরা শিশু তিনটিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করেন।

বেনাপোল থানা থেকে শিশু তিনটির পরিবারকে খবর দিলে দিলে তাদেরকে থানা থেকে বাড়ীতে নিয়ে আসেন। এছাড়া একই উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের মাছুমের ছেলে নাইম (১২) নয় মাস পর ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রবিবার মা বাবার কাছে ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের নান্টু ফরাজী ও তার স্ত্রী লাকী বেগম দুই শিশু কন্যা ও এক শিশু পুত্রকে নিয়ে ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের দিল্লী থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে ভারতের বনগাঁ জেলার গোপালনগর থানায় তাদেরকে আটক করে। পরে পুলিশ তাদেরকে ভারতের বনগাঁও আদালতে পাঠালে নান্টু ফরাজী ও তার স্ত্রীকে দমদম সেন্ট্রাল জেলে এবং তিন সন্তান তানিয়া আকতার (১৩), হেনা আকতার (১১) ও রাহান উদ্দিন ফরাজী (৯)কে  পৃথক ভারতের সেভ হোমে পাঠায়। এক মাস পরে  আদালতের নির্দেশে পিতা মাতাকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু শিশু তিনটি থাকে সেভ হোমে। অবশেষে ৯ মাস পর তিন সন্তানই মা-বাবার কোলে ফিরল।

শিশুদের পিতা নান্টু ফরাজী জানান, ৯ মাস আগে আমি ও আমার স্ত্রী তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে ভারতে থেকে দেশে ফেরার পথে ভারতের পুলিশ তিন সন্তানসহ আমাদেরকে আটক করে পৃথক জেলে পাঠায়। এক মাস পর আমরা মুক্তি পেলেও তিন সন্তানের কোন সন্ধান মেলেনি। অবশেষে ৯ মাস পর তিন সন্তানকে ফিরে পেলাম।

বেনাপোল পোর্ট থানার এএসআই আ. লতিফ সাংবাদিকদের জানান, পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানার তিন শিশুকে ভারত থেকে বিজিবির মাধ্যমে থানায় পাঠালে তাদেরকে তাদের  পিতা মাতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial