প্রধান সূচি

৮০১টি প্রতিমা ॥ পুকুরে অষ্টসখীর প্রতিমা

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দূর্গা পূজা হচ্ছে বাগেরহাটের হাকিমপুর শিকদার বাড়ি দূর্গামন্দিরে

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মন্দির হিসেবে খ্যাত বাগেরহাটের হাকিমপুরের শিকদার বাড়ীর দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষের পথে। চলছে রং তুলি আর নানা রংয়ের সাজ সজ্জার কাজ।

সারা দেশের সাড়া জাগানো এই মন্দিরে প্রতিমার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর প্রতিমার সংখ্যা ৫০টি করে বাড়লেও এবার একসঙ্গে ১০০টি প্রতিমা বাড়িয়ে প্রতিমার সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮০১টি। এ মন্দিরে এ বছর  স্বারদীয় দুর্গাৎসব পালিত হবে অন্যান্য বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন রুপ। এই মন্দিরে প্রতিমা আর সাজ সজ্জা উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সর্বশ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তারপরও যোগ করা হয়েছে এর সাথে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।

জানা গেছে, সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর আর কলি যুগের বিভিন্ন অবতারের কাহিনী নিয়ে এবারও মন্দিরকে সুসজ্জিত করা হচ্ছে। গত ১লা বৈশাখ থেকে খুলনার কয়রা উপজেলার হাতিয়াডাঙ্গা গ্রামের বিজয় কৃষ্ণ বাছাড়ের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ভাস্কর দিন রাত অকান্ত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে যাচ্ছেন। ৮/৯ মাস আগে থেকে শুরু করলেও ভাস্করদের যেন কোন দিকে তাকানোর সময় নেই। এক পলকে এক ধারায় চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কারুকাজ।  এখন কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। বাকি দিনের মধ্যে তুলির আচলে প্রতিমাগুলোকে প্রাণবন্ত করার নিরলস প্রচেষ্টা তাদের। চোঁখ ধাঁধানো সব প্রতিমা আর রং বেরঙের সুসজ্জিত করে মন্দিরকে যেন মুখরিত করে তোলা হচ্ছে।

প্রতিমা তৈরীর কাজে নিয়োজিত ভাস্কর বিজয় কৃষ্ণ বাছাড় জানান, তিনি বিগত কয়েক বছর ধরে এ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। মন্দিরের পৃষ্ঠপোষকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষের চাহিদা একটাই, আর সে চাহিদা হলো ধর্মানুরাগীদের সস্তুষ্টি করা। সে লক্ষে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বনে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর আর কলি যুগের বিভিন্ন অবতারের লীলা কাহিনী নিয়ে এবারও প্রতিমাগুলো তৈরী করা হয়েছে। যা ভক্তদের মনকে আরো পুলকিত এবং আকৃষ্ট করে তুলবে। তিনি বলেন, এখানে রয়েছে বিশ্বামিত্রের সঙ্গে শ্রীরাম-লন, তাড়কা-সংহার, বিশ্বামিত্রের যজ্ঞ-রা, অহলা উদ্ধার, পূষ্পে বটিকাতে শ্রীরাম-লন, রঙ্গভূমিতে দুই রাজ কুমার, স্বয়ংবর সভায় লণের রোধ, ধনুক ভঙ্গ, চার কুমারের বিবাহ, পিতার বাক্য পালন, সীতার উপদেশ-বন গমন, মাঝির ভাগ্য ও চিত্রকুটের শোভাসহ নানান কাহিনী নিয়ে বিশাল মন্দিরটিকে সুসজ্জিত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে, মনু-শতরুপাকে বর দান, দেবতাদের প্রার্থনা, শ্রীরামাবতার, সচ্চিদানন্দের দ্যোতিষী, দশরথের ভাগ্য, ধনু বিদ্যার অভ্যাস, সখ্যদের সঙ্গে শিকারসহ ১৭টি বাল্য লীলার কাহিনী রূপায়িত করা হয়েছে। এ ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিমা।

মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, মন্দিরের ভিতরে বিভিন্ন দেব দেবীর ৮০১টি প্রতিমা তৈরী করা হলেও বাইরে অর্থাৎ পুকুর পাড়ে বিশাল আকৃতির অষ্টসখীর প্রতিমা তৈরী করা হচ্ছে। এ মন্দিরের পৃষ্ঠপোষক শিল্পপতি লিটন শিকদারের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ করা, ঘুরে বেড়ানো, মানসিক পরিতৃপ্তির বিষয় বিবেচনা করে ২০১১ সালে এ পূজার আয়োজন করা হয়। সেভাবে চলে আসছে এ পূজা। তার বাবা স্বর্গীয় দুলাল শিকদার ছিলেন তার প্রেরণা। তারই পরামর্শ ও নির্দেশনায় এ পর্যন্ত শিকদার বাড়িতে দূর্গা পূজা হয়ে আসছে। আজ তিনি নেই। তাই তিনি যেভাবে পূজার শুরু করে গেছেন, তার মৃত্যুর পরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তার স্মরণে ও  আত্মার শান্তির জন্য এ বছর আরও ১০০টি প্রতিমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial