পরকীয়ার জের
গৃহবধুর স্বামী কুপিয়ে রক্তাক্ত করল ইউপি সদস্যকে
ইন্দুরকানীতে এক ইউপি সদস্যের গৃহবধুর সাথে পরকীয়ায় স্বামী ও তার লোকজন ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। পরে পুলিশ ও তার স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্বার করে আহত ইউপি সদস্যকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। শনিবার রাতে উপজেলার চাড়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় গৃহবধু কাজল বেগম বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিককে আসামী করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রবিবার বিকেলে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে গৃহবধুর স্বামী খোকা শিকদার ও তার প্রথম ঘরের ছেলে সিরাজুলকে পুলিশ ইউপি সদস্যের ছোট ভাই রমিচ মল্লিকের দেয়া মামলায় আটক করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিক (৬৮) এর সাথে পাশ^বর্তী গৃহবধু কাজল বেগম (৩৫) এর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলে আসছিল। দেড় মাস আগে গৃহবধু ও ইউপি সদস্যের মোবাইলে কথোপকথনের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কিন্তু ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিক পরকীয়া ছাড়তে না পেরে শনিবার রাতে আবারও গৃহবধু কাজল বেগমের বাড়ীতে যায়। কিন্তু গৃহবধুর স্বামী রাতে বরিশাল যাওয়ার কথা বলে সেখানে না গিয়ে ওত পেতে থাকে। গৃহবধুর স্বামী খোকা শিকদার ও তার লোকজন ইউপি সদস্যকে ঘরে আটকিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ খবর পেয়ে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পরে নিজেকে রক্ষার জন্য গৃহবধু কাজল বেগম বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. হাবীবুর রহমান জানান, ইউপি সদস্য রাতে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহবধুর বাড়ীতে গেলে তার স্বামী ও তার লোকজন তাকে কুপিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় উক্ত গৃহবধু বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জয়নাল মল্লিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। এদিকে, ইউপি সদস্যের ছোট ভাই বাদী হয়ে গৃহবধুর স্বামী ও ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের উপর হামলার অভিযোগে পাল্টা মামলা করেছেন।
