এবার পিরোজপুর সদরে
উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খুলতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে উপবৃত্তিধারী শিক্ষার্থীদের নামে বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য পিরোজপুরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন।
গত কয়েকদিনে সদর উপজেলার দুইটি মাদ্রাসা ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগণ এ ধরণের দুর্নীতি করেছেন বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের এমপিও বাতিল ও ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা হলেন- সদর উপজেলা চালনা নামাজপুর নেছারিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মালেক, নামাজপুর সাকিনা হামিদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলী আকছার ও দাউদপুর পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) অধীনে জুন মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ৮ম, ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৫ কিস্তিতে উপবৃত্তির বকেয়া টাকা প্রদানের জন্য পাঁচটি করে বিকাশ একাউন্ট খোলা হচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংক থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসব বিকাশ একাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। জানা গেছে, চালনা নামাজপুর সিনিয়র মাদ্রাসার ১২৯ জন, সাকিনা হামিদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ১৫৫জন এবং দাউদপুর পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২২০ জন উপবৃত্তিধারী শিক্ষার্থীর নামে বিকাশ একাউন্ট খুলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবী বা আদায় করছেন।
গত ২৪ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হোসেন দাউদপুর থেকে কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সাজেদুল হক সাজ্জাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে অভিযোগ পেয়ে পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিকাশ খোলার কার্যক্রম দেখতে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে শতাধিক অভিভাবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, হিসাব খোলা বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশ একাউন্ট খোলা কার্যক্রম স্থগিত রাখেন। এর আগে ১৯ জুন ও ২০ জুন চালনা নামাজপুর নেছারিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিকাশ হিসাব খোলার তারিখে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিকাশ কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘটনাটি এসইডিপি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান আব্দুল মালেক হাওলাদারের এমপিও বাতিলসহ ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এসইডিপি থেকে পত্র দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
একই ধরণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে সদর উপজেলা সাকিনা হামিদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও। গত ২৬ জুন এ মাদ্রাসার একাধিক অভিভাবকের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসইডিপি’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের কাছে লিখিতভাবে জানান, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ মেলায় এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের এমপিও বাতিলসহ ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করার অনুরোধ করা হলো। এ সব ঘটনার বিষয়ে চালনা নামাজপুর নেছারিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, দাউদপুর পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জসহ বকেয়া পাওনা আদায়ের বিষয় অভিভাবকরা ক্ষেপে গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া সাকিনা হামিদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলী আকছার ও চালনা-নামাজপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তারাও অভিভাবক বা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলা বাবদ কোন অর্থ গ্রহণ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হোসেন বলেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই করেই সিইডিপিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে পত্র দেওয়া হয়েছে।
