প্রধান সূচি

চিতলমারীর কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত ধানের দাম পাচ্ছে না

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত ধানের দাম পাচ্ছে না। ধান কাটার শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যেও চেয়ে অর্ধেকেরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। গৃহস্থরা জানিয়েছে, আর্থিকভাবে এই ক্ষতি মেনে নিয়েই তাদের বহিরাগত কিষাণদের চড়াদাম দিয়ে মাঠের ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

আড়–য়াবর্নি গ্রামের কামরুল মুন্সী বলেন, প্রতিদিন একজন কিষাণের মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। কিন্তু প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। এতে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরির দাম পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চরবানিয়ারী ইউনিয়নের খড়মখালী গ্রামের কৃষক কংকন মজুমদার বলেন, ‘অনেক চাষী সুদে বা ধারে টাকা নিয়ে চাষাবাদ করেন। ঝড়-বৃষ্টি হলে অনেকেই পথে বসে যাবে। প্রতি বিঘা (৫২ শতাংশে বিঘা) জমিতে ধান ফলাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যায় হয়। এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেন।’

চিতলমারী সদর ইউনিয়নের আড়–য়াবর্নী গ্রামের কৃষক রেজাউল মুন্সী জানান, বাজারদর ভালো পেলে কৃষক লাভবান হবে। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। ধান ক্রেতা সিন্ডিকেটের হাতে ধানের বাজার নিয়ন্ত্রিত হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আদুরী ব্রহ্ম জানান, প্রতিমণ ধান সরকারীভাবে ১০৪০টাকায় ক্রয় করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, ‘উপযোগী আবহাওয়া, পোকা-মাকড়ের কম উপদ্রব ও যথাযথ পরিচর্যায় এ বছর বোরো ভাল ফলন। চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। ফলন বাম্পার হয়েছে। স্বঠিক পরিচর্যার কারণে কোন রোগ-বালাই না হওয়ায় উৎপাদন ভাল।’

তিনি আরো জানান, সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ব্লকে বোরো চাষ হয়। তারমধ্যে এক হাজার ৬৫৫ একর বড়বাড়িয়া, এক হাজার ১৮৫ একর হাড়িয়ারঘোপ, এক হাজার ৮৭৭ একর মাছুয়ারকুল, এক হাজার ৩৫৮ একর কলাতলা, এক হাজার ২৯৬ একর রহমতপুর, এক হাজার ৩০৯ একর শৈলদাহ, এক হাজার ৩৪৬ একর হিজলা, এক হাজার ৩৩৩ একর কুরালতলা, এক হাজার ১৯৭ একর শান্তিপুর, ৬৬৭ একর শিবপুর, ৬১৭ একর বড়বাক, ২ হাজার ৭৪ একর চিতলমারী সদর, ৩ হাজার ৩১০ একর শ্রীরামপুর, ৩ হাজার ৮০৩ একর রায়গ্রাম, ৭০৪ একর চরবানিয়ারী, এক হাজার ৫০ একর খড়মখালী, ৫৫৫ একর চরডাকাতিয়া, ৭৯০ একর সন্তোষপুর, এক হাজার ২২২ একর দড়িউমাজুড়ি এবং কচুড়িয়া ব্লকে ৯৬৩ একরসহ সর্বমোট ২৯ হাজার ৮৯৭.১ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। তারমধ্যে ২৮ হাজার ৪৯১.৪৫ একর জমিতে হাইব্রিড, ৪৮১.৬৫ একর জমিতে উফশী জাতের এবং ৯২৪ একর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial