প্রধান সূচি

ফণি আতঙ্কে জেলার ২৫ হাজার মানুষের সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় ॥ শুকনো খাবার বিতরণ

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে পিরোজপুরে শুক্রবার রাত থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার বিকেল থেকেই পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার থাকা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় লোকজন এসে আশ্রয় নিতে শুরু করে। রাতে এসব আশ্রিত রোকজনের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম শুক্রবার রাতে ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টার ঘুরে আশ্রয় নেয়া লোকজনের মাঝে ব্যক্তিগতভাবে শুকনো খাবার ও মোমবাতি বিতরণ করেছেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রাথমিকভাবে ১৬শ’ কেজি চিড়া, ২শ’ কেজি গুড়, ১শ’ বান্ডিল মোমবাতি এবং গ্যামলাইট ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করেছেন।

পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ জানান, দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য রেড ক্রিসেন্টের কর্মী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করা হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জি এম সরফরাজ জানান, উপজেরার বড়মাছুয়া, আমড়াগাছিয়া শাপলেজা বেতমোর ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রের লোকজনের  মাঝে চিড়া, মুড়ি গুড় ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, তিনি নিজ হাতে বড়মাছুয়া আশ্রয় কেন্দ্রের লোকজনের শুকনো খাবার ও মোমবাতি বিতরণ করেছেন। অন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলোয় থাকা লোকজনের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যানরা শুকনো খাবার, মোমবাতি ও  বিতরণ করেছেন।

জেলা প্রশাসক আবু আলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ৬৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জেলাসহ ৭টি উপজেলায় ৮টি নিয়ন্ত্রন কক্ষ খোলা হয়েছে এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২২২টি সাইক্লোন শেল্টার।

ঘূর্ণিঝড় ফণি’র আঘাত হানার আতঙ্কে পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নেয়। শুক্রবার বিকেল থেকে এসব মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নেয়। জেলা ও উপজেলা ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশী। শুক্রবার সন্ধ্যার পরেও মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্রে গেছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি মঠবাড়িয়া উপজেলার ৫৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নেয়। বলেশ^র নদীর মাঝেরচরে দুইটি সাইক্লোন শেল্টারসহ মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাচিড়া, কচুবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া, খেজুরবাড়িয়া এলাকার লোকজন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।

জেলার ভান্ডারিয়ার তেলিখালী, হরিণপালা, জুনিয়া, বোতলা, হেতালিয়া, চরখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপজেলার ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া, পত্তাশী ও পাড়েরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১৯টি সাইক্লোন শেল্টারে লোকজন আশ্রয় নেয়।

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ও শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নের লোকজন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেলে ও সন্ধ্যার পর আশ্রয় নেয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial