পিরোজপুরে ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে ॥ নদীতে পানি বৃদ্ধি
ঘূর্ণিঝড় ফণি’র আঘাত হানার আতঙ্কে পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে এসব মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টারগুরোতে আশ্রয় নেয়। জেলা ও উপজেলা ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশী। সন্ধ্যার পরেও মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি মঠবাড়িয়া উপজেলার ৫৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বলেশ^র নদীর মাঝেরচরে দুইটি সাইক্লোন শেল্টারসহ মঠবাড়িয়া উপজেলার খেতাচিড়া, কচুবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া,
খেজুরবাড়িয়া এলাকার লোকজন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।
জেলার ভান্ডারিয়ার তেলিখালী, হরিণপালা, জুনিয়া, বোতলা, হেতালিয়া, চরখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপজেলার ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া, পত্তাশী ও পাড়েরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ১৯টি সাইক্লোন শেল্টারে লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ও শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নের লোকজন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেলে ও সন্ধ্যার পর আশ্রয় নিতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঠবাড়িয়ার সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাচিড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বলেশ^র, সন্ধ্যা, কালিগঙ্গা, কঁচানদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, পিরোজপুর জেলার তিনটি ফেরীঘাট ও আটটি লঞ্চঘাট থেকে শুক্রবার ফেরী ও নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে পিরোজপুরে বৃষ্টির সাথে বইছে ঝড়ো হাওয়া। শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টির সাথে শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। জেলার সর্বত্র বিরাজ করছে মেঘলা ও থমথমে আবহাওয়া।
ঝড়ো হাওয়ায় মঠবাড়িয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং ভাঙ্গা বেড়িবাধ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাঈদ আহম্মেদ জানান, নদীগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশ্রয় আনা হচ্ছে এবং সাগর থেকে মাছ ধরার সব ধরণের নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। জেলার অভ্যন্তরীন নৌপথে লঞ্চসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতির পরিমান কমিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ২২২টি সাইক্লোনশেল্টার। দুর্যোগ পরবর্তী সময় মোকাবেলার জন্য ৫৭টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজে অংশ নেয়ার জন্য পিরোজপুরে সেনাবাহিনীর ৩ প্লাটুন সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটসহ দুই সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম।
কাউখালী থেকে রবিউল হাসান রবিন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র আঘাতে নদী উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতির আশঙ্কায় কাউখালী-বরিশাল-ঢাকা, কাউখালী-স্বরূপকাঠী-ঢাকা ও কাউখালী-মোংলা-খুলনা নদীপথের লঞ্চ, স্টীমার, মালবাহী কোস্টার, ট্যাংকারসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে এসব নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউখালী বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-ট্রাফিক অফিস।
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় কাউখালী উপজেলায় প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার সকাল থেকে নদী তীরবর্তী ৫টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করেছে। প্রশাসনের পক্ষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফণীর প্রভাবে কাউখালীর সন্ধ্যা ও কচাঁ নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
