পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাব
কাঁচা ঘরবাড়ি বির্ধ্বস্ত ॥ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ দুই কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি
পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাবে গাছপালা ভেঙ্গে পড়াসহ নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কিছু এলাকায় পানি ঢুকেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার শাপলেজা ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। চর মাছুয়া ষ্টিমার ঘাট বেড়িবাঁধ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
দমকা হাওয়ায় কলাগাছ ও পেপে বাগানসহ কৃষিতে ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা কৃষি অফিস নিশ্চিত করেছে। শনিবার দুপুরে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জেলায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে ক্ষয়-ক্ষতির বিবরণ চাওয়া হয়েছে।
ঘুর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাবে মঠবাড়িয়ায় কাঁচা ঘরবাড়ি বির্ধ্বস্ত হয়েছে এবং জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বলেশ্বর নদের তীরের মানুষ বেড়ি বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জলোচ্ছ্বাস এর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি.এম সরফরাজ জানান, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৭৯১টি পরিবার ও ৪ হাজার ৭৩২জন লোক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ২৩০ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ ও ৫৭২ একর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঝড়ে ২৪৫টি কাঁচা ঘর ও ৪৩৭টি আংশিক কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ২.৬ কিলোমিটার বেড়ি বাধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
শুক্রবার রাতে ঝোড়ো বৃষ্টিতে নদী তীরবর্তী ক্ষেতাছিঁড়া, কচুবাড়িয়া জেলে পল্লীর অন্তত ৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে গেছে। বলেশ্বর নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়া এলাকার বেড়ি বাধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এতে এসব এলাকার মূগডালসহ ফসল দুই ফুট পানিতে ডুবে রয়েছে। ক্ষেতাছিঁড়া ও কচুবাড়িয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নদীর প্লাবনের হুমকির মুখে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহম্মেদ জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলার শাপলেজা ইউনিয়নের দুইটি পয়েন্ট থেকে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে খেতাচিড়া ও কচুবাড়িয়া এবং চরভোলমারা, ভাইজোড়া, নিজামিয়া প্রভৃতি গ্রামের নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।
শাপলেজা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন জানান, শনিবার দুপুরে খেতাচিড়া ও কচুবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্থ্য বাঁধ মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে মঠবাড়িয়ার খেতাচিড়া গ্রামে শতাধিক কাঁচাঘর বির্ধ্বস্ত হয়েছে।
জেলার ইন্দুরকানীতে ফণি’র প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী ৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার মধ্য রাত থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণি’র প্রভাবে ভারী বর্ষণ ও ধমকা বাতাসে কঁচা ও বলেশ্বর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইন্দুরকানী, কালাইয়া. বালিপাড়া, চরবলেশ^রসহ উপকুলবর্তী ৮ গ্রাম ডুবে যাওয়ায় মুক ডাল, মরিচ ও মৌসুমী সবজীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে নদী তীরবর্তী শতাধিক কাঁচা ঘর। ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে কলা চাষীদের। অধিকাংশ কলা ক্ষেত কলাসহ ভেঙ্গে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ইন্দুরকানী গ্রামের কলা চাষী আনোয়ার হোসেন জানান, তার তিন শতাধিক কলাগাছ ভেঙ্গে যাওয়ায় বেশ ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ পড়ায় বিদ্যুত লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইন্দুরকানী উপজেলা দূর্যোগ ও ব্যবস্থা কমিটির সদস্য সচীব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দূর্যোগ মোকাবেলায় আমদের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল ব্যাপক। ফণি’র প্রভাবে এ উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে নি¤œ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এবং দুই শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
ভান্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় ৪০টি কাচা ঘরবাড়ীর আংশিক ক্ষতি হয়। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ধান খেত, মুগডাল, ভুট্টার খামারের ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে একটি গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ এবং উপজেলা ছাত্রলীগের দিনভর প্রচেষ্টায় গাছ কেটে প্রায় ১৬ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ঘুর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কিছু মাছের ঘেরে মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম জানান মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে ভান্ডারিয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া লোকজন শনিবার বিকেলে নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছে।
