প্রধান সূচি

নাজিরপুরে এনজিও’র বিরুদ্ধে প্রতারণা করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামক একটি বেসরকারি এনজিও’র বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে।

জানা গেছে, পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’র নাজিরপুর জোনাল অফিসের বিলিং সহকারি আফরোজা আক্তার প্রায় দু’বছর আগে ওই এনজিও’র নাজিরপুর শাখা থেকে ১ লাখ টাকা লোন উত্তোলন করে। ওই সময় এনজিও কর্তৃপক্ষ তার কাছে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের, নাজিরপুর শাখার হিসাব নং-১০৯৩১০১০৮১৫৫৪ এর একটি চেক জামানত হিসেবে রেখে দেয়। ওই চেকটিতে কোন টাকার পরিমান উল্লেখ ছিলো না। শুধু আফরোজা আক্তারের স্বাক্ষর দেয়া ছিলো। গত বছরের শেষের দিকে আফরোজার লোনের টাকা পরিশোধ করা হয়। তখন এনজিও থেকে তার জমা দেয়া ওই চেকটি ফেরত না দিয়ে হারিয়ে গেছে বলে জানানো হয়।

আফরোজা আক্তার জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় তার ব্যাবহৃত মুঠোফোনে পূবালী ব্যাংকের দেয়া ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার ওই হিসাব থেকে ২১ হাজার ৩০৪ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পরে তিনি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ওই এনজিওতে জমা দেয়া ওই চেক থেকে তারা ওই টাকা উত্তোলন করেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ওই এনজিও’র শাখা ব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার ভাই জামিল আহম্মেদের লোনের কিস্তি বাবদ ওই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ জামিলের লোনের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নাই। এমনকি সে ওই লোনের জামিনদারও নন।

জামিল আহমেদ জানান, তিনি ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’ নামের এনজিও’র শ্রীরামকাঠী সমিতির (কোড নং-২০) গ্রাহক। তার সদস্য কোড নং-১৩। তিনি তার মুরগী খামার সম্প্রসারণের জন্য গত বছরের ১২ এপ্রিল ওই এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা লোন উত্তোলন করেন। আর ওই লোনের জামিনদার তার মা ও এক চাচাতো ভাই। নিয়মিতভাবে তিনি লোনের নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছেন। চলতি মাসেই লোন পরিশোধ হবে। গত বরিবারও তিনি ১০ হাজার টাকা কিস্তি দিয়েছেন। ওই দিনই তারা আফরোজার চেক থেকে টাকা উত্তোলন করেছে। কিন্তু তারা জামিলের কিস্তি বাবদ ওই টাকা তুলেছেন বলে দাবী করলেও সে টাকা জামিলের লোনের পাস বইতে জমা করেনি এবং তাকে অবগতও করেননি। তারা ওই টাকা আত্মসাতেও উদ্দেশ্যেই উত্তোলন করেছেন।

এ ব্যাপারে ওই এনজিও’র শাখা ব্যাপাস্থাপক মো. নুরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উত্তোলন করা হয়নি দাবী করে জানান, জামিলের লোনের গ্রান্টার হিসাবে তার বোনের দেয়া চেক থেকে তার টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। আফরোজা তার ভাইয়ের লোনের জামিদার নন এবং একই দিনে জামিল ১০ হাজার টাকা কিস্তি দেয়ার পরেও কেন তার বোনের পূর্বে জমা দেয়া চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং জামিলের কিস্তির জন্য টাকা উত্তোলন করা হলে কেন তা পাস বইতে জমা হয়নি এমন প্রশ্নের তিনি কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial