প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠী হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

স্বরূপকাঠী সরকারি হাসপাতালের গুটিকয়েক অসাধু নার্সদের অবহেলায় বেশির ভাগ প্রসূতি রোগীরা সেবার জন্য ছুটছেন বেসরকারী প্রাইভেট ক্লিনিক হাসপাতালে। যে কারণে উপজেলার অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের আয়ের সিংহভাগই আসে সিজারিয়ান অপারেশন থেকে। এজন্য রাতা-রাতি টাকার বনে যাচ্ছেন হাসপাতালের ‎চিহিৃত গুটি কয়েক দালালসহ কতিপয় অসাধু ষ্টাফ নার্সরা। স্বাভাবিক ডেলিভারিতে সন্তান প্রসূতি মায়েরা হাসপাতালের নার্সদের দেয়া আকার ইঙ্গিতে ভয়ভীতি ও দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সরাকরি সেবা ছেড়ে নির্ভয়ে সেবাদান নিতে ছুটছেন ক্লিনিকে। এতে করে একদিকে যেমনি তারা খোয়াচ্ছেন টাকা পয়সা তেমনি বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি হাসপাতালের সেবা দান থেকে।

নাম না প্রকাশ শর্তে স্বরূপকাঠী হাসপাতালের এক ডাক্তার বলেন, নার্সরা আমাদের মত স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের নয়। তারা হল পরিসেবা অধিদপ্তরের। তাদের আমরা হুকুম দিয়ে সন্তোষজনক কিছু করাতে পারছি না। হাসপাতলের ইনডোরে রোগী দেখতে গেলেই কোন নার্সকে যদি বলি রোগীর প্রেসারটা দেখেন। অমনি নার্সদের চোখ মুখ কুচকে উঠে। তখন অনেক সময় প্রয়োজনে আমরাই বাধ্য হয়ে করি। কোন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে রোগীর সাথে থাকা লোকেরা নার্সদের কোন কিছু জিজ্ঞাসা করলেই নার্সরা রোগী না দেখেই সরাসরি আমাদের (ডাক্তারদের) উপর চাপিয়ে দেন। কোন প্রসূতি মায়েরা হাসপাতালে ডেলিভারির জন্য ভর্তি হলেই রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে নিতে তৎপর থাকেন তারা।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন নার্সরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক সিনিয়র ষ্টাফ নার্স  মোবাইল ফোনে বলেন, আমিসহ হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র নার্স হাসপাতালের ভর্তিকৃত প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারি করে থকি। হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়লেই অনেক সময় ক্লিনিক মালিক, সিজারিয়ান ডাক্তারসহ তাদের পোষ্য দালালদের গায়ে জ্বালা ধরে। প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারির কারণে এ হাসপাতালের সিজারিয়ান ডাক্তারদের রোষানলে পড়তে হয় তাদের। যে কারনে হাসপাতালের ওইসব ডাক্তার ও তাদের পোষ্য দালালরা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের অন্যত্র বদলী করার জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকেন। তবে হাসপাতালের কিছু কিছু অতি লোভি নার্সদের খামখেয়ালিপানা জনিত কারণে আমাদের (অভিজ্ঞ নার্সদের) সমস্ত সেবাই ম্লান হয়ে যায়।

হাসপাতালের কয়েকজন জুনিয়র নার্স বলেন, হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র ও স্থানীয় নার্স কর্তব্যকালীন অনেক সময়ই হাসপাতালে আসেন না। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে তারা ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন ডায়গনষ্টিক ও প্রাইভেট ক্লিনিক হাসপাতালে। এ জন্য মাজে মাঝে তাদের ডিউটিও পালন করতে হয় জুনিয়র নার্সদের।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবরি পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহম্মেদ সিকদার বলেন, নার্সদের কথার মত কথা বললে অব্যশই তারা শোনেন। কোন নার্সদের ব্যাপারে অভিযোগ থাকলে আমাদের লিখিত জানাতে হবে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial