স্বরূপকাঠী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
লড়াই হবে নৌকা ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে সরব প্রার্থীরা। তবে ভোটে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না সাধারণ ভোটাররা। তারপরও ভোটারদের দৃষ্টি আর্কষনে শিডিউল করে প্রতিদিন এলাকা টার্গেট করে উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ করে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা গড়তে এলাকা ঘুরে ভোট ও দোয়া চাইছেন সাধারণ ভোটারদের। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গিকার।
৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বরূকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে এস,এম মুইদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকে আব্দুল হক ও এনপিপি মনোনীত আম প্রতীকে মো. সিদ্দিকুর রহমান।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. লাভলু আহম্মেদ (উড়োজাহাজ), রনি দত্ত জয় (চশমা), মাসুম বিল্লাহ (তালা), মেহেদী হাসান সাগর (বই), মাসুম বিল্লাহ বেপারী (মাইক), বায়োজীদ আহসান (টিউবয়েল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নারগীস জাহান (কলস),জাহানারা বেগম (পদ্মফুল), তুলি মন্ডল (প্রজাপতি), সাহারা নাসরিন (ফুটবল) প্রতীকে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশা-াশি প্রচার-প্রচরনায় থেমে নেই নারী প্রার্থীরাও। নারী অধিকার বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ঘুরছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। নির্বাচনে ওই ১৩ প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নিয়ে ভোটাররা বেশি মাথা না ঘামালেও আলোচনার ঝড় তুলছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হারজিত নিয়ে।
এখানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুলত: চেয়ারম্যান পদে তিন জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও এখানে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস,এম মুইদুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হকের মধ্যে। এমনটাই মনে করছেন এখানকার রাজনৈতিক মহল। নৌকা প্রতীক মুইদুল ইসলামের পক্ষে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে প্রতিদিনই চালাচ্ছেন উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ। নৌকাকে জয়ী করার জন্য চালাচ্ছেন ঘাম ঝড়া পরিশ্রম ও কৌশল। অপরদিকে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীক আব্দুল হকের পক্ষেও আওয়ামী লীগের একটা অংশ মাঠে নেমে কাজ করছেন প্রকাশ্যে। তবে ভোটারদের দাবী ভোট সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে শেষ পর্যন্ত জয় কার পক্ষে যায় তা আগাম বলা মহা মুশকিল।
নির্বাচনী এ মুহুর্তে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কেন্দ্র করে এখানকার শাসক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পড়েছেন কিছুটা দ্বিধা বিভক্তিতে।
১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত স্বরূপকাঠী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে ৬ ইউনিয়ন ও পূর্ব পাড়ে ৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। নদীর পূর্ব পাড়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুইদুল ইসলাম মুহিদের বাড়ি। যেখানে মোট ভোট রয়েছে ৬৪ হাজার ৫৪৬ ভোট। অন্যদিকে নদীর পশ্চিম পাড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হকের বাড়ি। সেখানে মোট ভোট ৯৮ হাজার ৬০৪। যেজন্য নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এস,এম মুইদুল ইসলাম মুহিদ ওই সংখ্যাগরিষ্ট ভোটার ৬ ইউনিয়নকে প্রধান্য দিয়ে তার নির্বাচনী প্রচার চলছে বেশ জোরেসোরে। তবে থেমে নেই আনারস প্রতীকের আব্দুল হকও। তিনিও মুহিদের ভোট ব্যাংকে হানা দেওয়ার জন্য চালাচ্ছেন নির্বাচনী নানান কৌশল।
দলীয়সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুইদুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি দীর্ঘ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক করেছেন। মুইদুল ইসলাম দুইবার জলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও একবার স্বরূপকাঠী উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।
স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। তিনি একবার উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
