দু’শ টাকার জন্য শিক্ষকরা শিক্ষা জীবন শেষ করে দিলো !
‘এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে গেলে সহকারি প্রধান শিক্ষক আমার কাছে ২শ’ টাকা চায়। কিন্তু আমি টাকা দিতে না পারায় তিনি প্রবেশপত্র না দিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দেন। তখন অন্য শিক্ষকরা অনুরোধ করলেও তিনি আমাকে প্রবেশপত্র দেননি। পরে পরীক্ষার দিন বেলা ১১টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আমার ছোট বোনকে দিয়ে আমার প্রবেশপত্র বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। যখন প্রবেশপত্র বাড়িতে পৌছেছে তখন আর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কোন সুযোগ ছিলো না। মাত্র ২শ’ টাকার জন্য স্যারেরা আমার শিক্ষা জীবন শেষ করে দিলো।’
শনিবার দুপুরে নাজিরপুর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদ হাওলাদার। শিক্ষকদের দাবীকৃত ২শ’ টাকা দিতে না পেরে প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এ পরীক্ষার্থী। জাহিদ হাওলাদার উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের পদ্মাডুবি গ্রামের হতদরিদ্র জাহাঙ্গীর হাওলাদারের ছেলে।
জাহিদ হাওলাদার জানান, মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে এসএসসি পরীক্ষা অংশ গ্রহণ করে সে। তবে সেই পরীক্ষায় রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ে সে অকৃতকার্য হয়। সেই কারণে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে ফরমপূরণ করেছিলো জাহিদ। তবে পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র নেয়ার জন্য সে মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিমল কৃষ্ণ সুতার তার কাছে প্রবেশপত্র বাবদ ২শ’ টাকা দাবী করেন। টাকা না দিতে পারলে তাকে প্রবেশপত্র না দিয়ে ফিরিয়ে দেন ওই শিক্ষক। পরে পরীক্ষার নির্ধারিত দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দিলেও তখন আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিলো না।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে সহকারী প্রধান শিক্ষক বিমল কৃষ্ণ সুতার জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ ক্রমেই পরীক্ষার্থী জাহিদের এডমিট কার্ড প্রথমে দেয়া হয়নি তবে ২৬ তারিখ প্রবেশপত্র জাহিদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনীল চন্দ্র বড়াল জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। এ ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত। আমি প্রধান শিক্ষক হিসেবে জাহিদের কাছে দূঃখ প্রকাশ করেছি এবং আগামী বছরে তাকে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
