বিআরডিবি’র কর্মচারীদের রাজস্ব করণের সিদ্ধান্ত ৭ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি মানবেতর জীবন যাপন করছে ২২শ’ কর্মচারী পরিবার
বিআরডিবির মূল কর্মসূচী ইউসিসিএলিঃ এর কর্মচারীদের রাজস্ব করণের সরকারি সিদ্ধান্ত ৭ বছরেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড এর মূল কর্মসূচীর আওতায় ৪৭৮টি উপজেলায় ইউসিসিএলিঃ এ ২২০০ কর্মচারী বর্তমানে কর্মরত আছে। দীর্ঘ ২ বছর সরকারী বেতন সহায়তা বন্ধ থাকায় অধিকাংশ কর্মচারীদের ১২-১৮ মাস ধরে বেতন বন্ধ। সরেজমিনে গেলে ইন্দুরকানী উপজেলা বিআরডিবি ইউসিসিএর পরিদর্শক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও অফিস সহায়ক জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিআরডিরিব ৩ জন অফিসার ছাড়া কোন রাজস্ব বাজেটের ৩য়-৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী নেই। অফিসের দৈনন্দিন অফিস পাহাড়া থেকে শুরু করে বিআরডিবির নিজস্ব কর্মকান্ড ও এপর্যন্ত বিআরডিবি/সরকারের ১১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বর্তমানে চলমান ১৫টি প্রকল্পের সকল কাজ ইউসিসিএর কর্মচারীদের করতে হয়। এমনজি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প আমাদের দ্বারা সমিতি গঠন থেকে শুরু করে সব কাজ করিয়ে কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তারা এখন নিয়মিত বেতন পায় আর আমরা সারাদিন না খেয়ে ৯-৫টা অফিস করতে হয়। বিআরডিবি “পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাস” এর কাজে নিয়োজিত একটি বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান। অথচ মূল কর্মসূচী ইউসিসিএর কর্মচারীরা তারা মাস শেষে বেতন ভাতা পাই না বছরের পর বছর। কর্মচারীদের দেশব্যাপী আন্দোলনের ফলে ১৪/০২/২০০৮খ্রিঃ সনে বিআরডিবির ৪২তম বোর্ড সভার বিবিধ
আলোচ্যসূচি (খ) অনুযায়ী ইউসিসিএর কর্মচারীদের রাজস্ব করণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তদানুযায়ী ২০১০ সালের ৪৪তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ তৎতকালীন মহাপরিচালককে সভাপতি করে ৯/১২/২০১০খ্রিঃ রাজস্ব বাজেটে অর্ন্তভূক্তকরনের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উচ্চ পর্যায়ের ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। উক্ত কমিটি ১৫/০২/২০১২খ্রিঃ তারিখে রাজস্ব করন করা এবং যতদিন পর্যন্ত রাজস্ব না হয় ততদিন পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যহত ও সম্প্রসারনের প্রয়োজনে ৭০% স্যালারী সাপোর্ট প্রদানের কার্যক্রম গ্রহনের সুপারিশ সহ প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১১/০৪/২০১২খ্রিঃ তারিখে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের এক সভায় ইউসিসিএর কর্মচারীদের রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন এবং যতদিন রাজস্ব না হয় তদিন পর্যন্ত ৭০% স্যালারী সাপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উপরোক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০/০৬/২০১২খ্রিঃ ও ২২/০৭/২০১২খ্রিঃ তারিখে অর্থ মন্ত্রনালয়ে ৭০% স্যালারী সাপোর্ট অব্যাহত রাখা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে রাজস্ব বাজেটে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য পৃথক দুটি পত্র প্রেরন করা হয়। রাজস্ব বাজেটে অর্ন্তভূক্ত করনে কোন অগ্রগতি ৭ বছরে
না হলেও অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে ২০১৩-১৪, ১৪-১৫, ১৬-১৭খ্রিঃ অর্থ বছরের ১.৫০ লক্ষ টাকা স্যালারী সাপোর্ট পাওয়া যায় তা চাহিদার তুলনায় ৫০% ছিল কিন্তু সিদ্ধান্ত ছিল ৭০% স্যালারী সাপোর্ট চলমান রাখার। ২০১৫-১৬, ১৭-১৮খ্রিঃ অর্থ বছরের স্যালারী সাপোর্ট না পাওয়া এবং ২০১৮-১৯খ্রিঃ অর্থ বছরের বরাদ্দ প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা থাকায় ইউসিসিএর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাবসহ কর্মচারীরা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অমরণ অনশনসহ মাসব্যাপী কর্মবিরতি পালনের দাবি করছি। দীর্ঘ মাস বেতন না পাওয়ায় প্রতি মাসে দেনাগ্রস্থ হয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছি আমরা। অধিকাংশ উপজেলার মত বিআরডিবি আমাদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ বাস্তবায়ন করেনি। বিগত ৩ বছরের ১.৫০ কোটি টাকা স্যালারী সাপোর্টের টাকা থেকে উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তাবায়ন না হওয়ায় স্যলারী সাপোর্টের অব্যায়িত তহবিল থাকা সত্ত্বেও সদর কার্যলয়ের অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা বকেয়া বেতন ভাতা পাচ্ছি না। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোন কার্যকর সমাধান সম্ভব না। কর্মচারীদের তরফ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাতের চেষ্টা চলছে, তবে এখনও স্বাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি। ৭ বছর আগে রাজস্ব করণের সরকারি সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেও সারাদেশে ৫৯ বছর শেষে অনেক কর্মচারী শূন্য হাতে অবসর গ্রহন করছে যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অমানবিক প্রথা। চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় কর্মচারীরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সফল কর্মসূচী দ্বি-স্তর সমবায় কার্যক্রম চলমান রাখার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মানবতার জননীর কাছে কর্মচারীদের একটাই দাবি দ্রুত বিআরডিবির মূলকর্মসূচী ইউসিসিএর কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করন/বিআরডিবিতে আত্মীয়করণ করাসহ কার্যক্রম গতিশীল করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যবস্থা নিবেন।
