মন্ত্রীর পরশে ধন্য জনতা
গত তিন দশক প্রতিক্ষার পর পিরোজপুরবাসীর ভাগ্যাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের দেখা মিলেছে। সে নক্ষত্রের আলোক রশ্মি ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র দেশব্যাপী। আর সে নক্ষত্রটি হলো জেলার নাজিরপুরের কৃর্তি সন্তান এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম। আর এ বিজয় যেন পিরোজপুরবাসীর স্বপ্ন পূরণে সাফল্যের শিখর চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। তারা একজন প্রিয় নেতাকে পেয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে। এ পাওয়াটা যেন তাদের কাছে পরম সৌভাগ্যের।
গত দু’দশক ধরে পিরোজপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল নানা বিভেদ-বিভাজনে ঘেরা। সঠিক নের্তৃত্বের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে নানা অনৈক্য ও মতবিরোধ। সাধারণ মানুষ তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলার মত তেমন কোন সুযোগ পায়নি। বিগত সময়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের সহিংস ঘটনা ঘটেছে অসংখ্য বার। আর এ সব ঘটনা থেকে হত্যাকা-, বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ, লুট-পাটসহ নানা ভয়াবহ ঘটনা পুরো দেশবাশিকে হতবাক করে দিয়েছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও আতঙ্ক ভর করে ছিল। সে চরম পরিস্থিতি থেকে তারা একটি বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। সে বিজয় কোন সাধারণ বিজয় নয়, অনেকের মতে এযেন এভারেষ্ট জয়ের মত এক মহা সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিমকে নৌকা প্রতীকে ভোট দানের মাধ্যমে এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন এলাকাবাসি।
পিরোজপুর-১ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য শ. ম রেজাউল করিমের উপর অর্পণ করা হয় মন্ত্রীর দায়িত্ব। তাকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করার খবরের সাথে সাথে পিরোজপুর-১ আসনের জনগণ যেন বাধ ভাঙা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। মন্ত্রীত্ব পাবার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
মন্ত্রী তাঁর নীতি-নৈতিকতা আর সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে জয় করে নিয়েছেন সকলের মন। সাধারণ মানুষও তাঁকে মন্ত্রী হিসাবে কাছে পেয়ে ধন্য হয়েছেন। এলাকার অনেকে ছুটে গিয়েছেন তার কার্যালয়ে অভিনন্দন জানাতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আলোচনার ঝড় উঠেছে তাঁকে নিয়ে। রাতারাতি একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিত্ব গ্রহনের পর প্রথম বার গত ২৩ জানুয়ারী মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম রাজধানী থেকে পিরোজপুরে তার নির্বাচনী এলাকায় আসেন। তার এ আসাটা ছিলো একটু অন্য রকমের। ঘরের ছেলে মন্ত্রী হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর এ আগমণকে ঘিরে এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়। সকলের মধ্যে ফিরে আসে প্রাণ চাঞ্চল্য। আনন্দ ঘন পরিবেশে এ সময় শত শত নেতা-কর্মী ও এলাকার সর্বস্তরের লোকজন, সরকারি, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছার মধ্যে দিয়ে বরণ করে নেন। তাদের প্রিয় নেতাকে মন্ত্রী হিসাবে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান সকলে। মন্ত্রীও নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। দু’বাহুতে জড়িয়ে ধরেন অনেককে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে কুশল বিনিময়। প্রশাসনের লোকজনও নড়ে-চড়ে বসেন প্রিয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এর আগে কোন নেতাকে মন্ত্রী হিসাবে এতটা কাছে পাননি এলাকাবাসি।
এদিকে, নির্বাচনী এলাকার জনগণ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ শুভানুধ্যায়ীদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করার পাশাপাশি সরকারী কার্যক্রমও করেছেন দিনভর। ২৩ জানুয়ারী থেকে ২৭ জানুয়ারী সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলেন মহা কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে। ছুটেছেন নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলায়। জেলার সরকারী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে করেছেন মতবিনিময় সভা। পরিদর্শন করেছেন গণপূর্ত দপ্তরের কার্যালয়। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের দিয়েছেন দিক নির্দেশনা।
নির্বাচনী এলাকার পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠী উপজেলায় মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় যোগ দিয়েছেন। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যার তালিকা করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে জমা দেয়ার জন্য এলাকাবাসীকে আহবান জানিয়েছেন।
পাঁচ দিন পিরোজপুরে অবস্থানকালে মন্ত্রীকে ছুটতে হয়েছে এলাকার পাড়া-মহল্লায়। এক প্রকার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন তিনি। প্রতিবেশি, বন্ধু-স্বজন কেউই এক মুহূর্তের জন্য পিছু ছাড়েনি তাঁর। কুশল বিনিময় করেছেন সাধারণ মানুষের সাথেও। এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেছেন সাক্ষাতে। আশ্বাসের বাণীও দিয়েছেন। এছাড়া নিজ এলাকার মাঠিভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজী আব্দুল গণি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাবুরহাট মাধ্যমিক কিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এলাকার নেতা-কর্মী ও সাধারণ লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারতে গিয়েছেন। প্রতিটি কাজে সঙ্গে রেখেছেন এলাকাবাসিকে। তাঁর উদারতা আর মহানুভবতা এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সাধারণ জনতার উদ্দেশ্যে প্রাণখোলা বক্তব্যের মাধ্যমে শুনিয়েছেন সাম্যের বাণী। তাঁর দ্বারা কোন মানুষ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেনা বলেও অভয় দেন। এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের পরিকল্পনা দেন। প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি আবার দৃঢ় কন্ঠে অনিয়ম-দুর্নীতি, চাঁদাবাজী ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। অন্যায়ের সাথে জড়িতদের কোন ছাড় নয় এর জন্য সকলকে সজাগ থাকতে বলেছেন।
একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও আদর্শ মানুষ হিসাবে তাঁকে এলাকার অনেকে শান্তির দূত হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। শুধু পিরোজপুরবাসি নয়, সমগ্র দেশবাসির উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাবেন এমনই প্রত্যাশা সকলের। তাহলে হয়তো সব মানুষের ভালোবাসা আর সহযোগিতার মাধ্যমে আরো সুগম হবে তাঁর আগামির পথচলা।
