শরণখোলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশেহাসপাতালের জমি দখল করে জনপ্রতিনিধির রাস্তা নির্মাণ
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (সরকারী) কোন অনুমতি ছাড়াই বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্পত্তি দখল করে রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করেছে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার সমদ্দারের যোগসাজশে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর ঘেষা দক্ষিণ দিকে বসবাসরত কয়েকটি পরিবারের চলাচলের সুবিধার্থে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভোট বানিজ্যের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি দখল করে রাস্তাটির নির্মান কাজ শুরু করা হয়। আর এই কাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ ওরফে (রুমি)।
জানাগেছে, ২০০৭ সালের ঘূণিঝড় সিডরের তান্ডবে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ দিক থেকে আংশিক প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে। তা সংস্কারের জন্য সরকারী কোন বরাদ্দ না থাকার কারনে দীর্ঘদিন ধরে পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। কিন্তু ২০১৪ সালে তৎকালীন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. মামুনউজ্জামান কারও কোন অনুমতি ছাড়াই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালের দক্ষিণ পার্শের ওই প্রাচীর সম্পূর্ন গুড়িয়ে দিয়ে একটি নতুন রাস্তা নির্মানের উদ্যেগ নেন।
বিষয়টি নিয়ে ওই সময় স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশ করলে (ইউএনওর) উদ্দ্যোগ ভেস্তে যায়। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে দীর্ঘদিন পর ভোট বানিজ্যের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সহায়তায় হাসপাতালের জমি দখল করে ওই রাস্তাটি পাকা করনের উদ্যেগ নেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক স্টাফ বলেন, সিডরের পর ২০১৪ সালে শরণখোলার তৎকালীন (ইউএনও) ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রাচীরের দক্ষিণ দিক থেকে ভেঙ্গে ফেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। যার ফলে অবাদে হাসপাতাল অভ্যান্তরে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়াসহ নানা প্রকার প্রানী অহরহ প্রবেশ করে তা চারণ ভূমিতে পরিনত করছে। পরিবেশ খারাপ হওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যা হলে হাসপাতালের আবাসিক কোয়াটারগুলোর আশে পাশে মাদক সেবীদের আড্ডা দেখা যায়। সদ্য নির্মানাধীন রাস্তাটির মোট জমির মধ্যে অর্ধেকই হাসপাতালের।
এছাড়া ওই সময় হাসপাতালের মধ্যের জমির মাটি খনন করে তা দিয়ে রাস্তা নির্মান করায় বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। যা বর্ষা মৌশুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। ওই সময়ে ভেঙ্গে ফেলা প্রাচীরের কয়েকহাজার ইট ও কয়েক মন রডের এখন কোন হদিস নেই। সরকারী জায়গা দখল করে প্রকাশ্যে রাস্তা তৈরী করা হলেও প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য সড়কটি নির্মান করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওই জমি কোনদিন প্রয়োজন হলে তা ভেঙ্গে ফেলা হবে।
অপরদিকে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার সমদ্দার যোগসাজশের বিষয়টি গুজব দাবী করে বলেন, জমি দখল করে রাস্তা নির্মানের বিষয়টি তিনি জানেন না। এছাড়া রাষ্ট্রের সম্পত্তি দেয়ার তিনি কেউ নন। মন্ত্রনালয়ের অনুমতি ছাড়া তার অনুমতি দেয়ার কোন বিধান নেই। এছাড়া হাসপাতালের প্রাচীর নির্মানের কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে। তবে দখলের বিষয়টি উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস বলেন, সরকারী জমি দখল করার এখতিয়ার করো নেই তবে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করা হবে।
