মঠবাড়িয়ায় মহাজোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ আহত ২০
পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনে মহাজোট প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকরা উপজেলার পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলা চালিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২০টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ধানীসাফা ইউনিয়নের বুড়িরচড় গ্রামের তুষখালী লঞ্চঘাট চৌরাস্তা মোড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর রহমানের সমর্থক ২০/২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টি (এরশাদ) কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর (লাঙ্গল প্রতীক) সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে রাজু মোল্লা (২৮), রুবেল (২৪), ফিলিপ তালুকদার (৩৫), শহিদুল (৩৩), মহারাজ তালুকদার (৪০) লিটন (৩৬), রিয়াজ (৩০) ও মামুন (৩৫)কে আহত করে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর রাজু মোল্লা, ফিলিপ, মামুন ও রিয়াজকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করে।
মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা ও আহত হওয়ার খবর মঠবাড়িয়া পৌর শহর ও ১১ ইউনিয়নে ছড়িয়ে পরলে মহাজোটের প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রায় ২০টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে এবং ১০ জন সমর্থককে আহত করে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আহত ফারুক (৬০), মোতালেব (৫০), বেল্লাল (৩২) ও সৌরভ (২৫)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি
করা হলেও বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
মহাজোট প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ধানীসাফার স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী মঞ্চসহ শহরের বহেরাতলা, মিরুখালী, গুলিশাখালী, দাউদখালী, টিকিকাটা, বেতমোর রাজপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপন বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সকল প্রকার নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
