ঘূর্নিঝড় সিডরে নিখোঁজের ১১ বছর পর
শরণখোলায় মৃত শহিদুল ফিরলেন, তবে জীবিত !
প্রলংয়করী ঘূর্নিঝড় সিডরে নিখোঁজ হওয়ার ১১ বছর পর বাড়ি ফিরেছেন উপজেলার শরণখোলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের জেলে ফুল মিয়া মোল্লার ছেলে শহীদুল মোল্লা (৪০)। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সাগরের ছাপড়াখালী চর এলাকায় সিডরের কবলে পড়ে জেলে শহীদুল ও তার পিতা ফুল মিয়াসহ আরও ৩ জেলে ট্রলারসহ নিখোঁজ হয়ে যান।
শনিবার বিকেলে আমড়াগাছিয়া বাজারে স্থানীয় লোক জন তাকে দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়।
শহীদুলের বড় বোন মঞ্জু বেগম বলেন, সিড়রের বছর তার ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর ট্রলারে করে ছোট ভাই শহীদুলসহ আরো ৩ জন জেলে সাগরে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ করে ১৫ নভেম্বর সিডরের জলোচ্ছাসে তারা ট্রলারসহ নিখোঁজ হয়ে যান। ওই ঝড়ে অন্য ট্রলারে থাকা তার পিতা ফুলমিয়াও নিখোঁজ হন। ঝড়ের পরে বহু খোঁজ করে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে আমরা মনেকরে ছিলাম তারা কেউ আর বেঁচে নেই। ১১ বছর পরে শনিবার বিকেলে আমড়াগাছিয়া বাজারে শহীদুলকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শনিবার বিকেলে রায়েন্দা বাজারে শহীদুলের ভগ্নিপতি পান্না ফরাজীর বাসায় বসে এলোমেলো কথা বলছিলেন ফিরে আসা জেলে শহীদুল। তিনি বলেন, এতদিন তিনি ভারতের পাটগ্রাম এলাকার রশিদ খানের বাড়িতে গরুর রাখালের কাজ করতেন। ভারতে তিনি কিভাবে গেলেন তা তার মনে নেই।
ভগ্নিপতি পান্না ফরাজী বলেন, শহীদুল নিখোঁজের সময় তার বাড়িতে স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও দুই কন্যা রেখে যায়। ইতোমধ্যে মেয়েদের বিবাহ হলেও তার স্ত্রী মাসুমা বেগম জীবিকার প্রয়োজনে ভারতের বেঙ্গালোরে মানুষের বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করছেন। শহীদুলের স্ত্রীকে তার স্বামী ফিরে আসার খবরটি জানানো হয়েছে। ওই সময় শহীদুলকে দেখতে তার বাড়িতে উৎসুক জনতা এক নজর দেখার জন্য ভিড় করে।
