কাল পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতু’র নির্মাণ কাজসহ তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পিরোজপুরবাসীর স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতু’র নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আর বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে বেকুটিয়া সেতু।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পিরোজপুরের কচাঁ নদীর ওপর বেকুটিয়া-কুমিরমারা পয়েন্টে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রীর আর্থিক সহায়তায় স্বপ্নের বেকুটিয়া সেতু নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন। এর ফলে দক্ষিনাঞ্চলের ১৮ জেলার কোটি মানুষের প্রানের সেতু নির্মিত হচ্ছে। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের মধ্যবর্তী প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ কচাঁ নদীর বেকুটিয়া-কুমিরমারা ফেরির অবসান হয়ে এক নব-দিগন্তের দ্বার উম্মোচিত হবে। সেই সাথে সড়ক ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে বয়ে আনবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। একইভাবে খুলনা বিভাগের সমুদ্র বন্দর মংলা ও পটুয়াখালী জেলার পায়রা বন্দর এবং দক্ষিন উপকূল অঞ্চলের অন্তত ১৮ জেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টিসহ পাল্টে যাবে অবহেলিত দক্ষিন উপকূল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অর্থনৈতিক চিত্র।
পিরোজপুরের সদর উপজেলা এবং কাউখালী উপজেলার রাজাপুর-নৈকাঠি-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের ১২তম কিলোমিটারে এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৯৮.০০ মিটার ও দুই লেনের সেতুর প্রস্থ ১৩.৪০ মিটার ধরা হয়েছে এবং সেতু নির্মাণে মোট প্রকল্প ব্যয় হবে ৮২১৮৪.০৯ লক্ষ টাকা। আর এজন্যে বাংলাদেশ সরকার ১৬৭০৪.৪৫ টাকা এবং চীন সরকার ৬৫৪৭৯.৬৪ লক্ষ টাকার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে। কচা সেতুর উভয় পার্শ্বের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১৪৬৭.০০ মিটার, এরমধ্যে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে ১০২৩.০০ এবং পূর্ব প্রান্তে ৪৪৪.০০ মিটার রাখা হয়েছে। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে রাখা হয়েছে একটি টোল প্লাজা। সেতু বাস্তবায়নকারি সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, পিসি বক্স গার্ডার সেতুতে মোট ৯টি স্প্যান ছাড়াও ৮টি পিয়ার, ২টি এ্যাবাটমেন্ট, ২৮.৯৮ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স, ১২২.০০মিটার হরিজন্টাল ক্লিয়ারেন্স, ৪৯৫.০০ মিটার ভায়াডাক্ট থাকছে।
চায়নার রেইলওয়ে ১৭টিএইচ ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারীর মধ্যে কচাঁ নদীর উপর বেকুটিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবার কথা রয়েছে। এদিকে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার চীনা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ঝাং জুও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের জন্য অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে নবনির্মিত পিরোজপুর জেলা কারাগার এবং নবনির্মিত ভান্ডারিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুর সদর উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নেরও উদ্বোধন করবেন।
পিরোজপুর জেলা কারাগার প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭৭ জন ধারণ ক্ষমতার পিরোজপুর জেলা কারাগারে দৈনিক গড়ে যে ৪০০ জন মানবেতর অবস্থায় বন্দীজীবন যাপন করেন সে ক্ষেত্রে ঘটবে আমূল পরিবর্তন। নতুন জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা হবে ৩০০ জন। জেলা কারাগারে বন্দীদের জন্য থাকবে ওয়ার্কশেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, বিচারাধীন কয়েদি ও মহিলা কয়েদিদের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা ব্যারাক। থাকবে পুরুষ অসুস্থ বন্দীদের জন্য মেডিকেল সেন্টার, প্রিজনারস সেল, ক্যান্টিন ইত্যাদি।
২০০০ সালে জমি অধিগ্রহণ করে ২০০১ সালের ২৬ মে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পিরোজপুর জেলা কারাগার নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে ছিলেন। ২০১১ সালে গণপূর্ত বিভাগ নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে অতিগুরুত্বের সাথে পিরোজপুর জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু করে। কাজের মধ্যে রয়েছে জেল অফিস কাম জেলারের বাসভবন (সাক্ষাতকার ব্লকসহ), প্রিজনার্স ওয়ার্ক শেড, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ব্যারাক, বিচারাধীন কয়েদি ব্যারাক (পুরুষ), কিশোর কয়েদি ব্যারাক, মহিলা কায়েদি ব্যারাক (সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন), ওয়ার্ডার্স ব্যারাক, মেডিকেল সেন্টার (পুরুষ), প্রিজনার্স সেল, স্টাফ কোয়ার্টার এবং দুইটি কোয়ার্টার। এনসিলারী ওয়ার্কসের মধ্যে রয়েছে রান্না ঘর, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, স্টোর রুম, লন্ড্রি, ফুয়েল স্টোর, ওপেন বাথ, লেট্রিন, গার্ড রুম, হেয়ারকাটিং ও সেলুটিং ডায়াস। এছাড়া বহিঃ পানি সরবরাহ এবং ওয়েস্ট ওয়াটার ডিসপোজাল কাজের ক্ষেত্রে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ জলাধার, পাম্প হাউজ, আরসিসি ড্রেন, পরীক্ষামূলক গভীর নলকূপ ও পৌর পানির লাইন, চার ইঞ্চি গভীর নলকূপ ও অভ্যন্তরীণ পানির লাইন ইত্যাদি রয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তমঞ্চ নির্মিত হয়েছে। ৬০০ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি গ্যালারীসহ ৫০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত এ স্থাপনায় একাডেমি অংশে ট্রেনিং রুম, দুইটি ড্রেসিং রুম, ভিআইপি রুম, ছয়টি টয়েলেট রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি মুক্তমঞ্চটি ভান্ডারিয়া পোনা নদীর পশ্চিম তীরে বন বিভাগের ইকোপার্ক ও থানা সংলগ্ন।
